১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,সকাল ৬:৩১

নানা আয়োজনে প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করল নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন

প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ

নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় মুসল্লি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহস্রাধিক বাংলায় অনুবাদকৃত পবিত্র কুরআন শরিফ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। ছবি: যুগান্তর

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা মরহুম নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয়, মানবিক ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন।

আলোচনা সভা, পবিত্র কুরআন খতম, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে পবিত্র কুরআন শরিফ বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে শতাধিক আলেম, হাফেজ, এতিম শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সমাজের বিশিষ্টজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে মরহুম নুরুল ইসলামের কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম, মানবসেবা এবং সমাজকল্যাণে তার অবদান তুলে ধরে বক্তব্য দেন জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলামের (মাদ্রাসা-মসজিদ ও এতিমখানা কমপ্লেক্স) প্রিন্সিপাল মুফতি সুহাইল আহমদ, শিক্ষক মাওলানা মাহফুজ আহমদ, হাফেজ মাওলানা সারওয়ার হোসাইন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, নুরুল ইসলাম শুধু একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তাই ছিলেন না; তিনি ছিলেন একজন মানবদরদি, দানশীল ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্ব। মহান আল্লাহ তাকে এমন গুণাবলিতে সমৃদ্ধ করেছিলেন, যার মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হন। শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন।

তারা আরও বলেন, মরহুম নুরুল ইসলামের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা কেবল স্মরণসভা আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার জন্য সদকা করা, নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত কামনা করা যেমন দায়িত্ব, তেমনি তার সততা, কর্মনিষ্ঠা, দেশপ্রেম, মানবসেবা ও উদারতার আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার আদর্শ অনুসরণই হতে পারে স্মৃতির প্রতি সর্বোত্তম শ্রদ্ধা।

আলোচনা সভা শেষে মরহুম নুরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন দৈনিক যুগান্তরের সহ-সম্পাদক ও নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের প্রকল্প প্রধান মুফতি মাওলানা তোফায়েল গাজালি।

পরে জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম-এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বনানী কবরস্থানে গিয়ে মরহুমের কবর জিয়ারত করেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন।

রাজধানীতে সহস্রাধিক পবিত্র কুরআন শরিফ বিতরণ

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মুসল্লি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহস্রাধিক বাংলায় অনুবাদকৃত পবিত্র কুরআন শরিফ বিনামূল্যে বিতরণ করে নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন। সোমবার দুপুর ২টা থেকে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ নগরীর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

মাদ্রাসা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সাধারণ মুসল্লি, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন বয়সী মানুষের হাতে পবিত্র কুরআনের কপি তুলে দেওয়া হয়। কুরআন হাতে পেয়ে অনেকেই মরহুম নুরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং এ মহতী উদ্যোগের জন্য নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন ও যমুনা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আল-কুরআনের খেদমত ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেক আমল। প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকীতে তার জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে মানুষ কুরআনের আলোয় নিজেদের জীবন আলোকিত করতে পারেন।

বৃক্ষরোপণে পরিবেশ সদকায়ে জারিয়ার বার্তা

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ ইসলামি দৃষ্টিতে একটি চলমান সওয়াবের কাজ বা সদকায়ে জারিয়া। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এ কর্মসূচি নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

তারা বলেন, একটি গাছ যতদিন মানুষের উপকারে আসবে, ততদিন এর সওয়াব দাতার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। এই বিশ্বাস থেকেই মরহুম নুরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাতের নিয়তে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ নুরুল ইসলাম ২০২০ সালে ইন্তেকাল করেন। তার স্মৃতিকে ধারণ করে শিক্ষা, মানবসেবা, ধর্মীয় কার্যক্রম, সামাজিক কল্যাণ এবং জনহিতকর উদ্যোগ পরিচালনার লক্ষ্যে যমুনা গ্রুপ ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিষ্ঠা করেন নুরুল ইসলাম ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফাউন্ডেশনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে

  • শেয়ার করুন