প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬
প্রকাশিত:
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
২০১৮ সালের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে জেলার প্রধান দায়িত্বে ছিলেন জেলা প্রশাসকরা। তখন তারা অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধাও নিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৫৭ জন জেলা প্রশাসকের অনেকেই পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব এবং বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের এইস পদন্নোতি বাতিল করে অতিসত্তর তাদের ব্যাংকব্যালেন্সসহ সম্পত্তির হিসাব সঠিকভাবে তদন্ত করে বিচারের দাবী করেন সুশিল সমাজ ও জুলাইর আন্দোলনকারী জনগন।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) একটি বড় অংশ আবারও আলোচনায় এসেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁদের আয়-সম্পদ, কর নথি ও সম্পদের উৎস যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে অনেকেই তৎকালীন সময়ে নারি কেলেঙ্কারিতেও সেরা ছিলেন।
২০১৮ সালের নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি হিসেবে জেলার প্রধান দায়িত্বে ছিলেন জেলা প্রশাসকরা। তাঁদের অধীনেই জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। ওই নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক ও নানা অভিযোগ রয়েছে। সে সময় কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রভাবশালী প্রার্থীদের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধাও নিয়েছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৫৭ জন জেলা প্রশাসকের অনেকেই পরবর্তীতে পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব এবং বিভাগীয় কমিশনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁদের অনেকে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন হন।
এদিকে সম্প্রতি ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকা ৩৩ জন সাবেক পুলিশ সুপারকে (এসপি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পর প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসকদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচন পরিচালনায় জেলা প্রশাসকরাই ছিলেন জেলার প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ফলে তাঁদের ভূমিকাও যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
আলোচিত ৫৭ জেলা প্রশাসক–
ময়মনসিংহে ড. সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, নেত্রকোনায় মঈনউল ইসলাম, জামালপুরে আহমেদ কবীর, শেরপুরে আনার কলি মাহবুব, সিলেটে এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জে মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, মৌলভীবাজারে মো. তোফায়েল ইসলাম, হবিগঞ্জে মাহমুদুল কবীর মুরাদ, ঢাকায় আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান, গাজীপুরে ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, নারায়ণগঞ্জে রাব্বী মিয়া, মুন্সীগঞ্জে সায়লা ফারজানা, কিশোরগঞ্জে মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, টাঙ্গাইলে মো. শহীদুল ইসলাম, নরসিংদীতে সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, মাদারীপুরে মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, শরীয়তপুরে মো. কাজী আবু তালেব, ফরিদপুরে উম্মে সালমা তানজিয়া, মানিকগঞ্জে এস এম ফেরদৌস, গোপালগঞ্জে মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার, রাজবাড়ীতে মো. শওকত আলী, চট্টগ্রামে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, রাঙামাটিতে এ কে এম মামুনুর রশিদ, বান্দরবানে মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, খাগড়াছড়িতে মো. শহিদুল ইসলাম, কক্সবাজারে মো. কামাল হোসেন, লক্ষ্মীপুরে অঞ্জন চন্দ্র পাল, চাঁদপুরে মো. মাজেদুর রহমান খান, ফেনীতে মো. ওয়াহিদুজ্জামান, নোয়াখালীতে তন্ময় দাস, কুমিল্লায় মো. আবুল ফজল মীর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হায়াত-উদ-দৌলা খান, রাজশাহীতে এস এম আব্দুল কাদের, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এ জেড এম নুরুল হক, নওগাঁয় মো. মিজানুর রহমান, নাটোরে মো. শাহরিয়াজ, পাবনায় জসিম উদ্দিন, বগুড়ায় ফয়েজ আহমেদ, সিরাজগঞ্জে কামরুন নাহার সিদ্দীকা, জয়পুরহাটে মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খুলনায় মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, বাগেরহাটে তপন কুমার বিশ্বাস, সাতক্ষীরায় এস এম মোস্তফা কামাল, যশোরে মো. আব্দুল আওয়াল, মাগুরায় মো. আলী আকবর, ঝিনাইদহে সরোজ কুমার নাথ, নড়াইলে আনজুমান আরা, কুষ্টিয়ায় মো. আসলাম হোসেন, মেহেরপুরে মো. আতাউল গনি, চুয়াডাঙ্গায় গোপাল চন্দ্র নাথ, বরিশালে এস এম অজিয়র রহমান, ঝালকাঠিতে মো. হামিদুল হক, পিরোজপুরে আবু আহমেদ সিদ্দিকী, পটুয়াখালীতে মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, বরগুনায় কবীর মাহমুদ, ভোলায় মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দীক এবং রংপুরে এনামুল হাবীব।