প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬
প্রকাশিত:
বিশেষ প্রতিনিধি ঃজাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিসিএস (কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ) ক্যাডারের বিতর্কিত কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের ক্ষমতার দাপট যেন কমছেই না। দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং সাংবাদিক নির্যাতনের মতো গুরুতর সব অভিযোগ মাথায় নিয়েও তিনি বহাল তবিয়তে ঢাকাতেই রয়ে গেছেন। এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেট থেকে সরিয়ে ঢাকারই অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে।
গত ১৯ মে, ২০২৬ তারিখে এনবিআরের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে (নম্বর: ০৮.০১.০০০০.০০০.০১১.০৫.০০০৪.১২) তিন জন যুগ্ম কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। এই তালিকায় তিন নম্বরে রয়েছে কামরুল ইসলামের (পরিচিতি নং ৩০০২৪৮) নাম। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এ যুগ্ম কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে বদলি করে কাস্টমস রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিশনারেট, ঢাকা-তে পদায়ন করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বন্ড কমিশনারেটে থাকাকালীন
লাগামহীন দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত কাঁচামাল খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া, লাইসেন্স নবায়নে উৎকোচ গ্রহণ, শুল্ক ও ভ্যাট সংক্রান্ত আইন অমান্য করে অর্থ আত্মসাৎ এবং নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে করফাঁকির সুবিধা করে দিয়ে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসে ঢাকা দক্ষিণ বন্ডের যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম এবং ডিসি পূরবী সাহার নিয়ন্ত্রণাধীন রাফায়েত ফেব্রিক্স এবং এস ইসলাম হোম এন্ড ফ্যাশন লিমিটেড মাত্র এক বছরেই ৪৩৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।
এই বিশেষ সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে উক্ত প্রতিষ্ঠান হতে ৩০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ঘুষ গ্রহণ এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তার রোষানলে পড়ে সাংবাদিক নির্যাতনের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটায় যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলাম।
দুর্নীতি, ক্ষমতা অপব্যবহার, বন্ড সুবিধায় ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের রাজস্ব ফাঁকি দেবার সুযোগ করে দেয়া কিংবা নৈতিক স্খলন। সাধারণত এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি বা ওএসডি (Special Officer on Duty) করার নিয়ম থাকলেও কামরুল ইসলামের ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। তাকে ঢাকাতেই এক কমিশনারেট থেকে অন্য কমিশনারেটে বদলি করা হয়েছে, যা নিয়ে খোদ এনবিআরের ভেতরেই কানাঘুষা চলছে।
কামরুল ইসলামের খুঁটির জোর কত গভীরে!! যেখানে তার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেখানে তাকে ‘রিস্ক ম্যানেজমেন্ট’-এর মতো সংবেদনশীল দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে। কাস্টমস রিস্ক ম্যানেজমেন্ট শাখাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে আমদানিকৃত পণ্যের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে এমন পদে বসানো পুরো ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাইতো খোদ কামরুল ইসলামের দপ্তরেই অনেকের প্রশ্ন, প্রভাবশালী কোন মহলের আশীর্বাদে তিনি বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন? কেন তার সম্পদের উৎস ও পরিমাণ নিয়ে তদন্ত শুরু হচ্ছে না?