প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঃ

মিরপুরে র্যাব–৪ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির।
রাজধানীর পল্লবীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায় চার মাস পর হত্যায় ‘সরাসরি অংশ নেওয়া’ দুই শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাশেদ ওরফে লোপন (৩৫) ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লু (৪০)। আজ শুক্রবার মিরপুরে র্যাব-৪ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে লোপন এবং উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে কাল্লুকে গ্রেপ্তার করা হয়। খুনের ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক ছিলেন। দেশ ছাড়ার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করতে ঢাকায় এসে ধরা পড়েন।
র্যাব আরও বলেছে, গ্রেপ্তার লোপনের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র্যাব। তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিজেদের শনাক্ত করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য, গ্রেপ্তার দুজন পেশাদার শুটার। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবীর পুরোনো থানার কাছে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে মুখোশ ও হেলমেট পরা তিন ব্যক্তি ঢুকে যুবদল নেতা কিবরিয়াকে কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিবরিয়াকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী সাবিহা আক্তার দিনা পল্লবী থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। হামলাকারীরা পালানোর সময় জনি ভূঁইয়া (২৫) নামে একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছিল উপস্থিত জনগণ।
ঘটনার পরদিন এজাহারভুক্ত আসামি মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল (৩০) এবং হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪। সে সময় সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়। এতে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ছাঁয়াতদন্ত চলছিল। একপর্যায়ে জানা যায়, পলাতক দুই শুটার দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।