প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

ঢাকার আশুলিয়ায় চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে সামিয়া আক্তার নামের এক শিশু গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহকর্মীর বাবা বাদীয় হয়ে আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন।
এর আগে গতকাল শনিবার রাতেই শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে (৩৭) আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে তাঁর অভিযুক্ত স্ত্রী চিকিৎসক মারিয়া সুলতানা (২৯) কৌশলে বাসা থেকে পালিয়ে যান।
আজ সকালে মামলা করার পর চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়।
সামিয়া আক্তারের (১০) বাড়ি পাবনার আমিনপুর থানায়। বছরখানেক আগে সামিয়ার বাবা তাকে জাহিদুল ইসলাম দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেন। জাহিদুল তাঁর চিকিৎসক স্ত্রীকে নিয়ে আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় ফাল্গুনী হাউজিংয়ের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তাঁরা সাভারের নয়ারহাট সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।
পুলিশ জানায়, সামিয়া চিকিৎসক দম্পতির বাসায় আসার পর থেকে নানা অজুহাতে তাকে মারধর করা হতো। জাহিদুল ও তাঁর স্ত্রী মারিয়া সুলতানা দুজনেই তাকে মারধর করতেন।
সর্বশেষ গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে তাকে মারধর করা হয়। এতে সামিয়া শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পায়। মারধরের একপর্যায়ে সামিয়া ওই বাসা থেকে বের হয়ে নিচে নেমে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ঘটনার বর্ণনা শুনে আশুলিয়া থানা ও তার পরিবারকে জানান।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে গতকাল রাতেই অভিযান চালিয়ে চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। তবে এর আগেই কৌশলে তাঁর স্ত্রী মারিয়া সুলতানা পালিয়ে যান।
ওসি রুবেল আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে সামিয়াকে মারধরের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে চিকিৎসক দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। শিশুটির বাবা রজব আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জাহিদুলকে আজ আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের বিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।