৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার,সকাল ৭:৫৭

বন্দর থানার ওসি’র বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতার বাণিজ্যর অভিযোগ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

জেলা সংবাদদাতা ঃ 

পুলিশকে জনগণের বন্ধু বলা হলেও, কিছু অসৎ, লোভী ও ঘুষখোর কর্মকর্তার জন্য মানুষ পুলিশকে ভিন্ন চোখে দেখে।এর ফলে  বাহিনীর দুর্নাম রটে। তেমনই একজন ঘুষখোর  পুলিশ কর্মকর্তা হলেন নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন।যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের যেন শেষ নেই।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনে রদবদল করা হয়।সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে গেল বছর ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে বন্দর থানায়  ওসি হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে।যা অব্যাহত রয়েছে।

ইতিমধ্যে মামলা ও গ্রেফতার বাণিজ্য সহ মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে মাসোহারা করার পাশাপাশি নিরীহ মানুষ কে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, যোগদানের পর থেকে  রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে ব্যাপক ‘ ঘুষ  বাণিজ্যে  মেতে উঠেছেন খোদ ওসি নিজে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে ফরাজিকান্দা এলাকায় দুই অটো ছিনতাইকারীকে হাতে নাতে আটক করে স্থানীয় জনতা।পরে খবর পেয়ে মদনগঞ্জ ফাড়ীর এসআই মিলন চন্দ্র আটক ছিনতাইকারী তাজউদ্দীন ও সম্রাটকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী অটো চালক এ ঘটনায় মামলা করার জন্য গেলে তার অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি, বরং রাতের বেলা মোটা অংকের অর্থ আদায় করে দুই ছিনতাইকারী কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগী অটো চালকের দাবী।তবে পুলিশ বলছে ভুক্তভোগী অটো চালক মামলা করতে চায়নি, তাই আটকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।এর আগে মদনপুরের আওয়ামী লীগ নেতা ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী অহিদুজ্জামান অহিদকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে এনে পাচ লাখ টাকা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে জামাই আদরে রাখা হয়।এছাড়াও মদনগঞ্জ শান্তিনগরের চিহ্নিত মাদক ব্যাবসায়ী ও হাফ ডজন মামলার আসামি ডিস দুলাল ও লক্ষ্যারচরের পদধারী আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন দেওয়ানজি কে গ্রেফতার করে থানায় এনে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়।আর মহানগর যুবলীগের নেতা সেতুকে গ্রেফতার করে লাখ টাকা আদায় করে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।থানার এসআই ফারুক ও এসআই ইদ্রিস আলীর মাধ্যমে এসব গ্রেফতার বানিজ্য করছেন ওসি আশরাফ উদ্দিন নিজে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানান,আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ‘আওয়ামী লীগার’তকমা দিয়ে আটক করে থানায় এনে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে গভীর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, আবার অনেককে ৫৪ বা ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।আর চাহিদামতো অর্থ না পেলে নিরীহ মানুষ কে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে হয়রানি করেন ওসি আশরাফ।এছাড়া দায়িত্বে চরম অবহেলাসহ অসংখ্য অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

সুত্র জানায়, ওসি আশরাফ উদ্দিন নিজেকে ঢাকার এক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছের লোক পরিচয় দিয়ে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য করছে।তিনি কাউকে তোয়াক্কা করেন না।

সচেতন মহল মনে করে,এভাবে একের পর এক অনিয়ম আর সেচ্ছাচারিতা চলতে থাকলে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষ সম্পুর্ন আস্থাহীন হয়ে পড়বে।যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন নির্বাচনে।

আগত সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরে সপ্তাহ পেড়িয়ে মাস চলে গেলেও কোনো প্রকার প্রতিকার মুলক ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়না।আইনী সেবা প্রদানে চরম অবহেলা করা হচ্ছে।আগের চেয়ে বেশি হয়রানি করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন তার অফিসার ও বডিগার্ড এবং তথাকথিত সোর্সদের মাধ্যমে মাদক ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন।

এর মধ্যে থানা এলাকার খোলা জ্বালানি তেল ব্যাবসায়ীদের থেকে মাসোহারা আদায় করে বডিগার্ড সাব্বির ও সুমন।আর বাংলা মদের কারখানা ও মাদকের ডিলারদের থেকে “প্রতিদিন” হিসেবে টাকা তোলে কথিত সোর্স মাছুম। আর গ্রেফতার বানিজ্যের নেতৃত্ব এসআই ফারুক ও এসআই ইদ্রিস আলী। এ বিষয়ে ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনকে  তার মুঠো ফোনে  জানতে চাইলে  বলেন  সব মিথ্যা কথা আর  আমার বডিগার্ড সাব্বির ও সুমন নামে কেহ নাই।আপনি লেখেন !

এ বিষয় জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘বি’ সার্কেল মো.ইমরান আহমেদ বলেন, এসব ঘটনা জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • শেয়ার করুন