১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার,রাত ৮:০৬

শিরোনাম
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে ভাতা দিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেব: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তিন মাসের মধ্যেই অপারেশন ক্লিনহার্ট অভিযান বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের তথ্যে হাদি হত্যার প্রধান দুই আসামি ভারতে গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের ব্যাবহার স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান মো. শহীদুল হাসানকে সচিব নিয়োগ : সঠিক সময়ে সঠিক মানুষ নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি’র দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী নির্বাচনে সভাপতি মো. শাহাদাৎ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল আকন নির্বাচিত মধ্যরাতে ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল–ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০ ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি, মিলছে ১৫ মার্চের টিকিট

ট্রাম্পের হুমকির মুখে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

এএফপি ঃ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (বাঁয়ে) কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো,     ছবি: এএফপি

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলম্বিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির মুখে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো প্রয়োজনে আবারও অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় পেত্রো বলেন, ‘আমি শপথ নিয়েছিলাম আর কখনো অস্ত্র ছুঁয়ে দেখব না… কিন্তু মাতৃভূমির প্রয়োজনে আমি আবারও অস্ত্র হাতে তুলে নেব।’

পেত্রো কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থী পেত্রো এক সময় গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন। ১৯৮৯ সালে শান্তি চুক্তির মাধ্যমে তাঁর দল এম-১৯ অস্ত্র সমর্পণ করেছিল। গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে পেত্রোর সঙ্গে তাঁর বাগ্‌যুদ্ধ চলছে

মাদুরোকে আটকের পর গত রোববার গুস্তাভো পেত্রোকে উদ্দেশ্য করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, পেত্রো ‘একজন অসুস্থ মানুষ। তিনি কোকেন উৎপাদন করতে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করতে পছন্দ করেন।’ এমনকি পেত্রোকে সতর্ক থাকারও হুমকি দেন তিনি।

গত কয়েক মাস ধরে ক্যারিবীয় সাগরে তথাকথিত মাদকবাহী নৌযানে হামলা চালিয়ে আসছেন মার্কিন সেনারা। তা ছাড়া ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিমানবাহী যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রণতরি মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি সেখান থেকে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী একটি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। আর সবশেষ গত শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন সেনারা। পেত্রো শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে আসছেন।

কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্পের প্রশাসন পেত্রোর ওপর মাদক পাচারের অভিযোগ এনে তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এছাড়া মাদকবিরোধী যুদ্ধে মিত্র দেশের তালিকা থেকে কলম্বিয়াকে বাদ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

জবাবে পেত্রো মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করে বলেন, ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে তা নিন্দনীয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আপনি ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোনো গোষ্ঠীর ওপর বোমা ফেলেন, তবে অনেক শিশু মারা যাবে। যদি কৃষকদের ওপর বোমা ফেলেন, তবে হাজার হাজার মানুষ পাহাড়ে গিয়ে গেরিলা হবে। আর যদি একজন প্রেসিডেন্টকে আটক করেন— যাকে আমার দেশের বড় একটি অংশ ভালোবাসে— তবে আপনি ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়বেন।’

এক্সে দীর্ঘ এক বার্তায় পেত্রো জানান, তাঁর মাদকবিরোধী নীতি যথেষ্ট শক্তিশালী। তবে তাঁর দেশের সেনাবাহিনী কতটা আক্রমণাত্মক হতে পারে, সেটারও একটা সীমা আছে।

২০২৬ সালে কলম্বিয়ায় জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, কলম্বিয়ার ডানপন্থী বিরোধী দলের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা পেত্রো সরকারকে আরও চাপে ফেলতে পারে।

 

  • শেয়ার করুন