প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২৬
নুরে আলম পারভেজ:
ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর এলাকার কয়েকটি দোকানের পেছনের অংশ এবং নির্দিষ্ট কিছু বসতবাড়িতে টাকার বিনিময়ে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। কোথাও কোথাও গভীর রাত পর্যন্ত এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ রয়েছে, যা এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, হাওলাদার বাড়ির আশপাশ এবং পশ্চিম দিকে যাওয়ার রাস্তার ধারের কয়েকটি বাড়িতে সন্ধ্যার পর জুয়ার আসর জমে ওঠে। এছাড়া কিছু দোকানের পেছনেও অর্থের বিনিময়ে জুয়া খেলার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। মাদকের পাশাপাশি এই জুয়ার বিস্তার তরুণ ও যুবসমাজকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
দোকানের পেছনে ও বসতবাড়িতে চলছে জুয়ার আসর অভিযোগ রয়েছে, দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই ওইসব নির্দিষ্ট স্থানে সন্দেহভাজন লোকজনের আনাগোনা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। দোকানের আড়ালে এবং কয়েকটি বসতবাড়ির ভেতরে চলে রমরমা জুয়া খেলা। এলাকার যুবসমাজকে রক্ষার্থে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঠিক কারা জড়িত, কারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে এবং কে বা কারা এদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে—তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।
এলাকাবাসীর জোর দাবি উদ্বিগ্ন এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক প্রশাসন। কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব কিংবা অর্থের জোর দেখিয়ে পার পেয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি মিলন মেম্বারের ওয়ার্ডে এমন পরিস্থিতি কেন ?
উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত রাজ্জাকুল হাওলাদার মিলন মেম্বার। স্থানীয়ভাবে তিনি মিলন মেম্বার নামেই পরিচিত। তাঁর দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছরের জনপ্রতিনিধিত্বের কথা এলাকায় প্রচলিত রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের বিভিন্ন সময়েও তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে পরিচিতি রয়েছে। আগামী দিনে তাঁকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবেও দেখতে চান অনেকে।
তবে তাঁর নিজ ওয়ার্ডে মাদক, জুয়া ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় সামাজিকভাবে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার যুবসমাজকে রক্ষা করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
মিলন মেম্বারের প্রতি আহ্বান—নিজের ওয়ার্ডের সম্মান ও সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় এখনই উদ্যোগ নিন। অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন এবং এলাকাকে নিরাপদ রাখতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করুন।
রাইছুল আলমের নিজ এলাকাসহ আশপাশের পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি
বিএনপির ভোলা জেলা সদস্যসচিব জনাব রাইছুল আলমের নিজ এলাকা এবং আশপাশের এলাকায় মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিজ নিজ এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। এলাকার কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁর পরিচয় যা-ই হোক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মাদক ও জুয়ার ঝুঁকিতে আগামী প্রজন্ম
একটি এলাকার সবচেয়ে বড় সম্পদ তার যুবসমাজ। অথচ মাদক ও জুয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি হলে তরুণদের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সামাজিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আজকের একজন কিশোর বা তরুণ যদি জুয়া ও মাদকের সংস্পর্শে চলে যায়, আগামী দিনে তার পরিবারকেও এর ভয়াবহ পরিণতি বহন করতে হতে পারে। তাই বিষয়টিকে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি পুরো এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রশ্ন।
তথ্যমন্ত্রী ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ
ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ পুরো এলাকায় মাদক ও জুয়াবিরোধী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে ভোলা জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, ভোলা সদর থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ—অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করুন। যেসব স্থানে জুয়ার আসর বসার অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে নজরদারি বাড়ান। মাদক ব্যবসা ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
সাংবাদিক পারভেজের বক্তব্য: অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান
এ বিষয়ে স্থানীয় স্থানীয় সাংবাদিক বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও অপরাধমূলক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি। কিন্তু যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এখন আর নীরব থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
ঢাকা সাংবাদিক পারভেজের দাবি, অপরাধের সঙ্গে আমার পরিচিত কিংবা কাছের কেউ জড়িত থাকলেও অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমার উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় করা নয়; বরং এলাকার বাস্তব সমস্যা তুলে ধরা এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তবে কারও বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়া অভিযোগ প্রকাশ করা হবে না। অপরাধী যে-ই হোক, আইনের আওতায় আসতে হবে।
প্রশাসনের কাছে জরুরি দাবি
৯ নম্বর ওয়ার্ডের দোকান ও বসতবাড়িতে জুয়ার আসরের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে।
মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে।
রাতের বেলায় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অপরাধের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
উত্তর দিঘলদীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডকে মাদক, জুয়া ও অপরাধমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। একটি এলাকার সম্মান রক্ষা করা শুধু একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব নয়; এটি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন, অভিভাবক এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।
আজ যদি আমরা যুবসমাজকে রক্ষা করতে না পারি, আগামী দিনে এর ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে পুরো সমাজকে।
অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন, যুবসমাজকে বাঁচান। মাদক ও জুয়ামুক্ত উত্তর দিঘলদী গড়ে তুলুন।