৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার,বিকাল ৪:৪৯

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ কচুয়া-বেতাগী সেতু নির্মাণ করা গেলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন ঝালকাঠি-১ (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি বলেছেন, এ সেতু নির্মিত হলে পায়রা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ অনেক সহজ হবে। এর ফলে এ অঞ্চলে শিল্পায়ন ও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাম ভবনে ঢাকাস্থ ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “এই জায়গায় যদি একটা ব্রিজ হয়, তাহলে দক্ষিণ অঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের দূরত্ব দুই ঘণ্টা কমে যাবে। এখন পটুয়াখালী বা বরগুনা অঞ্চলের মানুষ খুলনায় যেতে হলে বরিশাল-বেকুটিয়া হয়ে ঘুরে যেতে হয়। এতে প্রায় ৭০-৭৫ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হয়। রূপাতলীতে যানজটও তৈরি হয়।”

তিনি বলেন, “বেতাগী থেকে কচুয়ার দিকে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের সুবিধা হবে। পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, যশোর, মাগুরা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগের সময় অনেক কমে আসবে।”

“একদিকে আমাদের পায়রা বন্দর, আরেকদিকে মোংলা বন্দর। দুইটা বন্দরের দূরত্ব তখন মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে চলে আসবে। আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে মোংলা যেতে পারব, এক ঘণ্টা সোয়া ঘণ্টার মধ্যে পায়রা যেতে পারব,” বলেন তিনি।

সংসদ সদস্য বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হলে এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশেষ করে পায়রা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ এলাকায় বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে।

তিনি বলেন, “এখানে বড় একটা বিষয় হলো ইন্ডাস্ট্রি। অনেক কোম্পানি এদিকে চলে আসতে পারে। আমাদের কুয়াকাটায় পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেখানে জমির দাম অনেক বেড়েছে। আমরা কাঁঠালিয়ার শৌলজালিয়ায়ও পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছি। একটি ইকোপার্ক করার চেষ্টা চলছে।”

রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “রাজাপুর ও কাঁঠালিয়াকে কচুয়া-বেতাগী সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে এ এলাকার গুরুত্ব আরও বাড়বে। কারণ, তখন এ অঞ্চল দুই বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কচুয়া-বেতাগী ব্রিজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্রিজ হলে দক্ষিণাঞ্চলের দুই বন্দরকে একটি যোগাযোগের আওতায় নিয়ে আসা যাবে। পটুয়াখালী থেকে যে মানুষ যশোর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট কিংবা পিরোজপুর যেতে চায়—তাদের আর এত ঘুরে যেতে হবে না।”

সেতু নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “আমি ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি। উনি যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইতোমধ্যে সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই ও স্টাডির জন্য কিছু ফান্ড বরাদ্দ করেছেন। কাজগুলো বর্তমানে চলমান রয়েছে।”

সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান

মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি বলেন, অতীতের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে যদি কাজ করি, তাহলে আমাদের পূর্বের যে ব্যর্থতা, সেটা নিয়েও মাঝে মাঝে বসে আলোচনা করা দরকার। সামনে যারা নেতৃত্ব দিতে আসবে, তারা যেন আর ব্যর্থ না হয়। ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করা দরকার—তা শিক্ষা নেওয়ার জন্য, বদনাম করার জন্য নয়।”

তিনি আরও বলেন, “ইতিহাস শুধু সফলতার জন্যই পড়া হয় না, ব্যর্থতার ইতিহাসও পড়তে হয়। আমরা যদি আগের ইতিহাসগুলো জানি, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক ভুল এড়াতে পারব।”

দক্ষিণাঞ্চলের সাংবাদিকদের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সকালের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার মো. শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশের সিনিয়র রিপোর্টার মাহফুজ সাদি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আমার বার্তার ফটো সাংবাদিক মোস্তফা কামাল জাহিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দৈনিক গণকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার মোরতুজা আমিন ডিলন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও রাইজিংবিডি ডটকমের আসাদ আল মাহমুদ এবং নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির, সাংবাদিক ও লেখক,, কবিরুজ্জামান মিয়া, নিজামুল হক ও সুমন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ঝালকাঠির উন্নয়ন, জেলার পর্যটন ও শিল্প সম্ভাবনা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের পেশাগত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম জামাল। তিনি বলেন, কোনো দল বা দলের কর্মীকে বিতর্কিত করা তার উদ্দেশ্য নয়; বরং নিম্নমানের কাজ, অনিয়ম ও ঠিকাদারি ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমি যে কথাটা বলেছি, আমি দলের কর্মীকে বিতর্কিত করিনি। একটা শ্রেণি আছে, যারা আওয়ামী লীগের দালালি করেছে। আওয়ামী লীগের সময়ে নিম্নমানের কাজ হয়েছে, খারাপ কাজ হয়েছে। এখন সেই কাজগুলো আমরা কিনে নিয়ে আরও খারাপ করছি। সুতরাং এর দায়-দায়িত্ব আমাদেরও নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনাগুলোও সামনে আনতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সবশেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “আমরা সবাই মিলে মাঝে মাঝে একটু বসতে পারি। আমাদের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা দরকার। আমরা সবাই মিলে যদি বসি, তাহলে নিজেদের ভুল-ত্রুটি যেমন বুঝতে পারব, তেমনি সামনে আরও ভালোভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।”

 

 

 

 

  • শেয়ার করুন