১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,সকাল ৭:৩৮

শিরোনাম
জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ৫ জন গ্রেফতার সাবেক সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় মামলা রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে শুনানি রোববার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ, অঙ্গসংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মী ঢাকায় গ্রেফতার: ডিএমপি মাদ্রাসার শৌচাগারে শিক্ষার্থীর লাশ, শিক্ষক জাকারিয়া তিন দিনের রিমান্ডে, শুনানিতে উঠে এল নানা তথ্য নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৪২ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতফাইল ছবি রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকার একটি মাদ্রাসার শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়াকে (৩৫) তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তার অপর এক শিক্ষকের বয়স মামলার এজাহারে ২০ বছর উল্লেখ করা হলেও শুনানিতে তাঁর আইনজীবী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁকে শিশু বিবেচনায় রিমান্ড শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন। আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ৩ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার একটি শৌচাগার থেকে ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে ওই রাতেই কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট ওই মাদ্রাসা থেকে দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৪ আগস্ট তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমজাদ হোসেন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আজ আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে রিমান্ড শুনানি হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নিহত শিশু ও তার ছোট ভাই ওই মাদ্রাসায় পড়ত। বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকেরা ওই শিশুর ওপর নির্যাতন চালাতেন। বিষয়টি সে তার মাকে জানালে মা তাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন, কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী সময়ে সে আর মাদ্রাসায় পড়বে না বলে শিক্ষকদের জানালে তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করেন এবং বেলা একটা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। আদালতে বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তি শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী হারুনর রশীদ খান রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, ১৩ বছরের একটি শিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে বাথরুমে হত্যা করা হয়েছে। অথচ আসামিপক্ষ এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করছে, যা একটি অগ্রহণযোগ্য যুক্তি। ওই শিশুটি আগেই তার মাকে জানিয়েছিল, সে এই মাদ্রাসায় পড়তে চায় না। আইনজীবী আরও বলেন, নিহত ছাত্রটি পড়াশোনায় ভালো ও শান্ত স্বভাবের ছিল। শিক্ষক তাকে নিজের কাছে ঘুমানোর জন্য বলতেন। মূলত গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আসামিদের রিমান্ড প্রয়োজন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রদেরও কোনো অভিযোগ নেই। সেখানে ধর্ষণ বা হত্যার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আদালতে শিক্ষক ও নিহতের ভাইয়ের বক্তব্য শুনানিকালে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি জাকারিয়াকে কোনো বক্তব্য আছে কি না জানতে চান। এ সময় জাকারিয়া বলেন, ‘আমরা হাফেজ মানুষ, আমরা মারিনি। ঘটনার দিন ওই ছেলে পড়া না পারায় তাকে কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল। জোহরের নামাজের আগে সে বাথরুমে যায়। নামাজ শেষে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে ফেরেনি। পরে বাথরুমের দরজা ভেঙে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। আমাদের ছাত্ররা এর সাক্ষী।’ আদালত জাকারিয়াকে মাদ্রাসায় সিসিটিভি ফুটেজ আছে কি না, জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ নেই, অনেক আগেই হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া ওই ছাত্র এর আগেও কয়েকটি মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তখন আদালত প্রশ্ন করেন, ‘এই ডিজিটাল যুগে আপনাদের সিসিটিভি ফুটেজ নেই কেন?’ শুনানির একপর্যায়ে আদালত নিহত শিক্ষার্থীর ছোট ভাইকে ডেকে কথা বলেন। মাদ্রাসায় তাদের মারধর করা হতো কি না, জানতে চাইলে শিশুটি বলে, ‘আমাদের অনেক মারধর করা হতো। ভাইয়ের সাথে বেশি খারাপ ব্যবহার করা হতো।’ কেমন খারাপ ব্যবহার করা হতো, তা জানতে চাইলে শিশুটি আর কোনো উত্তর দেয়নি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিক্ষক জাকারিয়ার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং অপর শিক্ষককে শিশু আদালতে রিমান্ড শুনানির জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত প্রাঙ্গণে স্বজনদের বিক্ষোভ আজ আদালতে নিহত শিক্ষার্থীর মা ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামিদের আদালত থেকে নামানোর সময় উত্তেজিত স্বজনেরা তাঁদের মারধর করতে উদ্যত হন। পুলিশ দ্রুত আসামিদের হাজতখানায় নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় নিহত শিশুর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা আসামিদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন ও আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন। পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি, কখন কী ছিলেন মির্জা ফখরুল মেয়াদ শেষের ১১ মাস আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদের নিয়োগ বাতিল রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান আমানতের উৎসে কর সরকারি কোষাগারে জমার সময় বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিজওর্ডার এক বিস্তৃত পরিসরের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতাকে বোঝায় ও জটিল স্নায়ুবিক বিকাশজনিত রোগ

প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ড.নাছিমা ইসলাম চৌধুরী বৃষ্টি  ঃঅটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (Autism Spectrum Disorder – ASD) বলতে সাধারণভাবে এক বিস্তৃত পরিসরের স্নায়ুবিক বিকাশজনিত (Neurodevelopmental) প্রতিবন্ধকতাকে বোঝায়। এটি একটি জটিল স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা, যার প্রভাব একজন ব্যক্তির সারাজীবন ধরে থাকে।

অটিজমে আক্রান্ত প্রতিটি ব্যক্তি স্বতন্ত্র। তাদের দক্ষতা, আগ্রহ, ব্যক্তিত্ব এবং সক্ষমতা একে অপরের থেকে ভিন্ন হয়। বর্তমানে অটিজমের কোনো স্থায়ী নিরাময় নেই। তবে স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, শিক্ষাগত সহায়তা এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের হস্তক্ষেপ ও সহায়তামূলক সেবা অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders (DSM-5) অনুযায়ী:

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার এমন একটি অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক পরিস্থিতিতে ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগ (Social Communication) এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া (Social Interaction)-এ ঘাটতির সম্মুখীন হন। এর মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক সামাজিক যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা, সামাজিক যোগাযোগে ব্যবহৃত অমৌখিক আচরণ (যেমন চোখের যোগাযোগ, মুখভঙ্গি ও অঙ্গভঙ্গি) ব্যবহারে অসুবিধা, এবং সম্পর্ক গড়ে তোলা, বজায় রাখা ও বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যা। এছাড়াও, ASD নির্ণয়ের জন্য সীমাবদ্ধ ও পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ, আগ্রহ বা কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি আবশ্যক।

 

 

অটিজম একটি স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার

অটিজমকে স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার বলা হয়, কারণ এটি এমন একগুচ্ছ বিকাশজনিত অবস্থার সমষ্টি, যেগুলোর বৈশিষ্ট্য অনেকাংশে মিল রয়েছে, কিন্তু লক্ষণ ও তীব্রতার মাত্রা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

DSM-5 অনুযায়ী, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারকে সাধারণভাবে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে বর্ণনা করা হয়েছে:

 

ক) অটিস্টিক ডিসঅর্ডার (Autistic Disorder)

 

এটি ASD-এর সবচেয়ে পরিচিত ও সাধারণ রূপ। এ ধরনের ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণত দেখা যায়—

* ভাষা ও যোগাযোগে সমস্যা,

* সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় অসুবিধা,

* অস্বাভাবিক বা পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ,

* এবং কিছু ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা (Intellectual Disability)।

খ) অ্যাসপারগারস ডিসঅর্ডার (Asperger’s Disorder)

 

এই ধরনের ব্যক্তিদের লক্ষণ তুলনামূলকভাবে মৃদু হয়। সাধারণত তাদের—

* বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে,

* ভাষা বিকাশে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব থাকে না,

* তবে সামাজিক যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণে সমস্যা দেখা যায়।

গ) পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার – নট আদারওয়াইজ স্পেসিফায়েড (PDD-NOS)

 

এটিকে অ্যাটিপিক্যাল অটিজম (Atypical Autism) নামেও পরিচিত।

এই ধরনের ব্যক্তিদের মধ্যে অটিস্টিক ডিসঅর্ডার বা অ্যাসপারগারস ডিসঅর্ডারের কিছু লক্ষণ দেখা যায়, কিন্তু সব লক্ষণ একসঙ্গে উপস্থিত থাকে না। ফলে তাদের সমস্যার মাত্রা সাধারণত তুলনামূলকভাবে কম বা মৃদু হয়।

অটিজম স্পেকট্রামের অন্যান্য ধরন

উপরোক্ত তিনটি প্রধান শ্রেণি ছাড়াও অটিজম স্পেকট্রামের অন্তর্ভুক্ত আরও কিছু পরিচিত ধরন রয়েছে, যেমন—

* ইনফ্যান্টাইল অটিজম (Infantile Autism)

* চাইল্ডহুড অটিজম (Childhood Autism)

* ক্যানারের অটিজম (Kanner’s Autism)

* হাই-ফাংশনিং অটিজম (High-Functioning Autism)

* চাইল্ডহুড ডিসইন্টিগ্রেটিভ ডিসঅর্ডার (Childhood Disintegrative Disorder)

অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারকে প্রায়ই রংধনুর (Rainbow) মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। রংধনুর বিভিন্ন রং অটিজমের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য, সক্ষমতা এবং চাহিদার বৈচিত্র্যকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ

  • শেয়ার করুন