১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার,রাত ২:০১

শিরোনাম

বন্দরে কলেজ ছাত্রী কে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বাবা ও ভাইকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :

নারায়ণগঞ্জ বন্দরে কলেজ ছাত্রী কে উত্ত্যক্ত করার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে মানহানীর প্রতিবাদ করায় বাবা ও চাচাতো ভাই কে কুপিয়ে জখম করেছে বখাটেরা।সেইসাথে ছাত্রীর চাচা ও মাকে মারধর করে এবং বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে নগদ টাকা সহ মুল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মামলা রুজু করা হয়নি।

রবিবার (১৫ জুন) রাত ১১ টার দিকে উপজেলার পদুঘড় বাড়ৈখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আব্দুর রহিমের মেয়ে রাজিয়া সুলতানা শান্তা(১৮) সরকারি কদম রসুল কলেজে ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী।বেশকিছুদিন যাবত প্রতিবেশী জাহের মিয়ার ছেলে বখাটে রুবেল (২৮) তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।গত দু/তিন দিন যাবত শান্তার একটি ফটো এডিট করে বিকৃত করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় রুবেল। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গতকাল রাত ১১ টার দিকে বাড়ৈখালি ব্রীজের ওপর রুবেল কে দেখে শান্তার বাবা আব্দুর রহিম ও বড় চাচা আবু সাঈদ ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন।তখন তাদের ওপর চড়াও হয়ে নেশাগ্রস্ত রুবেল ও তার বাবা জাহের মিয়া, মা নুরজাহান,ফারুক,শিশির ও

ছালাম সহ আরও ১০/১৫ জনকে নিয়ে তাদেরকে বেদম মারপিট করে।ডাক চিৎকার শুনে শান্তার চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ শাহীন সহ বাড়ির লোকজন এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারধর করে। রুবেল তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ শাহীন কে হত্যার উদ্দেশ্যে উপর্যুপরি কুপিয়ে মাথার পেছনে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে। একইসাথে শান্তার বাবার হাত-পায়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।একপর্যায়ে তাদের বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে নগদ ৩৭ হাজার টাকা সহ মুল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।পরবর্তীতে গুরুতর আহত আব্দুর রহিম ও আব্দুল্লাহ শাহীন কে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।এ ঘটনায় শিক্ষার্থী শান্তার বড় চাচা ও আহত আব্দুল্লাহ শাহীনের বাবা আবু সাঈদ বাদী হয়ে সোমবার দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, ঘটনার ২ দিন আগে রাস্তায়  মোটরসাইকেল থামিয়ে  রুবেল কলেজ ছাত্রী শান্তাকে উত্ত্যক্ত করে।এমনকি তার বিভিন্ন ফটো এডিট করে বিকৃত করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় রুবেল।

এ ঘটনার প্রতিবাদ করে শান্তার চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ শাহীন। এই নিয়ে গতকাল রাতে ব্রীজের ওপর শান্তার বড় চাচা ও বাবার সাথে বাকবিতন্ডা হয়।একপর্যায়ে রুবেল ফোন করে তার লোকজনদের খবর দিয়ে আনে এবং শান্তার চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ শাহীন এবং বাবা রহিম কে কুপিয়ে জখম করে। এমনকি তাদের বাড়িতে হামলা করে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

 

৩শ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের  চিকিৎসকের মতে আব্দুল্লাহ শাহীনের ঘাড়ের নিচের আঘাতটি গুরুতর।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আনিসুর রহমান বলেন, ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এসআই মামুন খালাসি ঘটনার বিষয় তদন্ত করছেন।পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • শেয়ার করুন