প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬
র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।
সংবাদ সম্মেলন করে র্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল বিএনপিও।
বিশেষ প্রতিবেদক ঃ
গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত থাকায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা, দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির সুপারিশ এসেছে। তবে র্যাব বিলুপ্ত না করার চিন্তা করছে সরকার। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর অনেকটা ঝিমিয়ে পড়া এ সংস্থার কার্যক্রম কীভাবে চলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গতকাল সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তবে এই বাহিনীর কাঠামোতে কী কী ধরনের সংস্কার আনা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর র্যাবের অতীতের কর্মকাণ্ড সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। এ বছরের ৫ জানুয়ারি গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দেওয়া এক হিসাবে উঠে এসেছে, মোট গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গেই র্যাব জড়িত ছিল। একক বাহিনী হিসেবে এটা সর্বোচ্চ। তা ছাড়া সারা দেশে গুম কমিশন যে ৪০ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে, তার মধ্যে ২২-২৩টি ছিল র্যাবের।
পুলিশের বিশেষ শাখার নথিতে সাত বছরে (২০১৫-২১ সাল) ১ হাজার ৭টি ক্রসফায়ারের ঘটনায় ১ হাজার ২৯৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য পেয়েছে প্রথম আলো। নথিগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসব ঘটনার ৬৫১টিতে পুলিশ ও ২৯৩টিতে র্যাবের নাম এসেছে। আরও ১০টি ঘটনায় যৌথভাবে পুলিশ,র্যাব বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর নাম এসেছে।
এ বছরের ৫ জানুয়ারি গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের দেওয়া এক হিসাবে উঠে এসেছে, মোট গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গেই র্যাব জড়িত ছিল। একক বাহিনী হিসেবে এটা সর্বোচ্চ। তা ছাড়া সারা দেশে গুম কমিশন যে ৪০ গোপন বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে, তার মধ্যে ২২-২৩টি ছিল র্যাবের।
মানবাধিকার ইস্যুতে গত দুই দশকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনায়। দেশি–বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই ধরনের অপরাধেই র্যাবের নাম সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে। এমন বাস্তবতায় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। এ বছরের শুরুতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ (এইচআরডব্লিউ) বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও সংস্থাটি বিলুপ্তির দাবি জানায়। এর আগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে র্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিল। এর দুই দশক আগে ২০০৪ সালের মার্চে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিএনপি সরকারই বিশেষ এই ইউনিটটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। এরপর র্যাবের ‘ক্রসফায়ারে’ ঢাকায় পিচ্চি হান্নানসহ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় সন্ত্রাসী এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ‘চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা’ একের পর এক নিহত হয়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে র্যাব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতিষ্ঠার পর আলোচিত অপরাধী বা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীরাই ছিল র্যাবের মূল লক্ষ্যবস্তু। তবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রভাবশালীদের নির্দেশনা এবং প্রতিপক্ষকে দমনে ব্যবহার হতে শুরু করে র্যাব। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় সম্পৃক্ত হতে থাকে সংস্থাটি। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনা এর বড় একটি উদাহরণ। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুর হোসেনের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে র্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদসহ ১১ জন র্যাব সদস্য এ খুনের ঘটনাগুলোয় জড়িয়েছিলেন।
শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায় র্যাব। তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র্যাব সৃষ্টির পর থেকে যেসব জনসাধারণ র্যাব সদস্যদের দ্বারা নির্যাতিত, অত্যাচারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের কাছে এবং নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ যাঁরা র্যাবের দ্বারা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র্যাবে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ থাকার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
এমন বাস্তবতায় বিভিন্ন পক্ষ থেকে র্যাব বিলুপ্তির দাবিটি আবার সামনে আসে। গত ৫ এপ্রিল র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ এক মতবিনিময় সভায় বলেন, র্যাবের বিলুপ্তি বা র্যাব-সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকার বিবেচনা করবে। তাঁদের কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া।
র্যাব বিলুপ্ত না করলেও বাহিনীটির বর্তমান কাঠামো বদলানো জরুরি বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী মো. হুমায়ুন কবির বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে যুক্ত রাখা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি গতকাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের, সেই পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট বেসামরিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্য থেকেই বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ইউনিট গড়ে তোলা যেতে পারে।
র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। যারা একসময় র্যাবকে সহযোগিতা করেছে, তারাই মানবাধিকার রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তাই সংস্কার করতে হলে বাহিনীর কাঠামো, জবাবদিহি, আইনি সীমা ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে আইনে রাখতে হবে।
বিএনপি এখন কী করবে ঃ র্যাবের বিলুপ্তি চেয়ে ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে দলের তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘র্যাব আন্তর্জাতিকভাবেই এমনভাবে নিন্দিত হয়েছে…আর দেশে তো র্যাব মানেই একটা দানব তৈরি করা হয়েছে। তারা যত ধরনের খুন-গুম, যত এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং (বিচারবহির্ভূত হত্যা), অধিকাংশই এই র্যাব বাহিনীর মাধ্যমে হয়েছে। সে জন্য আমরা এটিকে বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছি।’ সংস্থাটি বিলুপ্ত করা হলে জনগণের কাছে একটা ভালো বার্তা যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সংস্কার না করে বিলুপ্তির পক্ষেও তখন কথা বলেছিলেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের পর বিএনপির এ বিষয়ে ভূমিকা কী হবে—এখন সেই প্রশ্ন সামনে আসছে। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো বলছে, অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো র্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করলেও সরকার গঠনের পর ভিন্ন চেহারা দেখিয়েছে। যেমন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলো র্যাব নিয়ে তাদের আশঙ্কার কথা জানায়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগে ক্ষমতায় আসার পরপরই র্যাব বিলুপ্ত করার পরামর্শ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সেটি না করে উল্টো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় র্যাবকে আরও বেশি ব্যবহার করতে থাকে। এমনকি ক্ষমতা বাড়াতে ২০১৪ সালে র্যাবের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে পুলিশ অধিদপ্তরকে না রেখে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন নিয়ে আসার প্রস্তাব করা হয়। যদিও পরে আর সেটি কার্যকর হয়নি। বর্তমানে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তার (মহাপরিচালক) অধীন র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন পরিচালিত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় র্যাব বিলুপ্তি নিয়ে নানা পক্ষের দাবির মুখেও শেষ পর্যন্ত সেটি করা হয়নি। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে র্যাব গঠন করা হয়। আইনের ১৩ ধারায় দায়মুক্তির বিধান রেখে বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন সৎ উদ্দেশ্যে করা বা করার উদ্দেশ্যে গৃহীত কোনো কাজের জন্য বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা, ফৌজদারি কার্যক্রম বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ধারাটি বাতিল করে সব বাহিনীকে কঠোর আইনি জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে সেটি আর করা হয়নি। বিভিন্ন পক্ষ থেকে র্যাবের জন্য পৃথক আইনের আলোচনা হলেও সেটিও আর এগোয়নি।
র্যাব পুনর্গঠনের বিষয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজের সভাপতিত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কমিটি র্যাবের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ বা এসআইএফ করার সুপারিশ করে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেন। তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে র্যাবের পোশাক পরিবর্তন ও কার্যক্রমে সংস্কার আনার কথাও জানানো হয়। পরে এসব উদ্যোগের কোনোটিরই আর বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।র্যাব নিয়ে এ ধরনের আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে বাহিনীটির আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সামগ্রিক কার্যক্রমও গতি হারিয়েছে। গত পাঁচ বছরে বাহিনীর বড় ধরনের অভিযান কমেছে। অস্ত্র উদ্ধার, পেশাদার সন্ত্রাসী, ডাকাত, জলদস্যু গ্রেপ্তারসহ অপরাধ দমনের সাত ধরনের কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে।
বাহিনীটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিয়মিত অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এখন র্যাবের কার্যক্রম। নতুনভাবে র্যাব নিয়ে যেন কোনো বিতর্ক তৈরি না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে চান তাঁরা।
র্যাবের তাহলে কী হবে
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ ও গুরুতর আহতসহ অনেক বিক্ষোভকারীর সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন দেয় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান দল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কে সামনে রেখে গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে র্যাবের বলপ্রয়োগ ও গ্রেপ্তারের কথা উঠে আসে। ওএইচসিএইচআর ওই প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, র্যাব নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা উচিত। বিলুপ্ত করলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে আর বহাল রাখলেও সেটি কীভাবে থাকবে, কোনো সংস্কার হবে কি না, সংস্কার হলে কোথায় কোথায় হবে, তা জানাতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্যোগ না নিলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সরকারের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
র্যাব নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে সাবেক গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল বলেন, র্যাবের আইনটি কীভাবে করা হবে, বাহিনীর কাঠামো কী হবে, সেটি শুধু পুলিশের দক্ষ সদস্যদের নিয়ে হবে নাকি আগের মতো বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে হবে—এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। আইন হলে তখন দেখা যাবে গুম–সংক্রান্ত কমিশনের সুপারিশ কতটা বাস্তবায়িত হলো।
মইনুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো এলিট ফোর্স রাখা হলে তা শুধু পুলিশের দক্ষ সদস্যদের সমন্বয়ে হওয়া উচিত। কারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব। র্যাব নামটি ইতিমধ্যে দেশে–বিদেশে বিতর্কিত ও আতঙ্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। তাই নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আসতে পারে।