৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,বিকাল ৫:০৩

শিরোনাম
বিদ্যুৎ মন্ত্রী জ্বালানি বিল নিবেন না, সরকারের সাশ্রয় মাসে ৮৪ হাজার টাকা পদত্যাগ করব না, পারলে বরখাস্ত করুক: দৃঢ় কণ্ঠে মমতা কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় তিন জাপানি সিনেমা প্রশাসনের মাসিক সভায় হত্যা মামলার আসামিদের উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড় বন্দরে কুড়িপাড়া খাল পূন: খনন কাজের উদ্বোধন করেন এমপি আবুল কালাম প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দারের সঙ্গে ঢাকাস্থ ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে বিএফইউজে-ডিইউজের শোক ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার নজরুল ইসলাম নজুর মাদক ব্যাবসা,চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীতে স্থানীয় লোকজন অতিষ্ঠ,দ্রুত গ্রেফতারের দাবী

প্রশাসনের মাসিক সভায় হত্যা মামলার আসামিদের উপস্থিতি নিয়ে তোলপাড়

প্রকাশিত: মে ৬, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

মাহফুজ জাহিদ :

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি  কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিয়ে চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।একইসাথে স্থানীয় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়েও  প্রশ্ন উঠেছে।গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তাঁদের অনুপস্থিতি থাকলেও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় তাদের  উপস্থিতি ঘিরে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অন্তত ছয়জন চেয়ারম্যান নিয়মিত এই সভায় উপস্থিত থাকছেন।যাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন কারাভোগও করেছেন বলে জানা গেছে। আবার কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালত থেকে জামিন না নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাইজ্জাদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন, বিশনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, উচিৎপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন, খাগকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম, মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ আমান এবং কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়জুল হক ডালিম—এই ছয়জনই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে যুক্ত ছিলেন বা আছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় মামলা দায়ের হলেও তাঁরা প্রশাসনের সভায় উপস্থিত থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে, সাধারণ মানুষ ছোটখাটো মামলায় জড়িয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হলেও গুরুতর একাধিক  মামলার আসামি জনপ্রতিনিধিরা কীভাবে নির্বিঘ্নে প্রশাসনিক সভায় অংশ নেন। এতে আইনের সমতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় পর্যায়ে দলটির অনেক জনপ্রতিনিধি এলাকা ছেড়ে যান। তবে বর্তমানে তাঁদের কেউ কেউ আবার সক্রিয় হয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সময়কার নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান কঠোর।

এ বিষয় জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুর রহমানকে একাধিকবার মুঠোফোনে  ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়জুল হক ডালিম বলেন, তিনি কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। যেসব মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেগুলোতে তিনি জামিনে রয়েছেন। পাশাপাশি চেয়ারম্যান নির্বাচনের সময় দল তাঁকে বহিষ্কার করেছিল, যা এখনো বহাল আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

  • শেয়ার করুন