প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২৬
এম এ হালিম ঢালী ঃ
রাষ্ট্রায়িত্ত প্রতিষ্ঠান বিআরটিসির ১ হাজার ১৯৪টি বাস জ্বালানি তেলের সংকটে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ও আরামদায়ক বিআরটিসির বাসগুলো যাত্রীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। জ্বালানি তেলের অভাবে বিআরটিসির যাত্রী পরিসেবা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

পেট্রোল পাম্প ও অসৎ ভোক্তাদের কারণেই মুলত এই সংকট সৃষ্টির মুল কারণ।
আতংকিত হয়ে মালিকানা যানবাহন বাস-ট্রাক, প্রাইভেট কার ও বাইক শেয়ারকারি রাইটাররা প্রয়োজনের তুলনায় পাম্পগুলো থেকে অতিরিক্ত তেল নিয়ে বাসাবাড়ি ও অফিসে মজুদ করে রাখছে। যা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের কথা জেনেও ভোক্তারা লাখ লাখ লিটার তেল বেআইনিভাবে নিজেদের আয়ত্তে রেখে দিয়েছে। অপরদিকে বিআরটিসি একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের বাসগুলোর চালকরা সরকারিভাবে নিয়োগ কৃত ও বেতনভুক্ত চালক। তারা বারতি ঝামেলায় যেতে চায় না। বিআরটিসির ডিপোর ম্যানাজাররাও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তেল মজুদ করে না। এইজন্যই বিআরটিসির হয়েছে মহা বিপদ। যাত্রী পরিসেবাও হচ্ছে বিঘ্ন। শত-শত বাস তেলের অভাবে অলস হয়ে পড়ে রয়েছে ডিপো গুলোতে। বাসের চালকরা তেলের জন্য এ পাম্প থেকে ও পাম্পে গাড়ি নিয়ে ছোটো ছুটি করছে। ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছে না।
তাই বিআরটিসিকে বিপুল পরিমাণ অর্থের লোকশানে পড়তে হচ্ছে। এ-ধারা অব্যহত থাকলে ড্রাইভারদের বসিয়ে বসিয়ে মাসের পর মাস বেতন দিতে হবে।
অতিরিক্ত মুনাফার লোভে অসাধু পাম্প মালিক এ কাজটি করছেন।
পাম্প গুলোতে পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের জন্য সরকার কয়েকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব নিয়েছেন।
যেমন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনিস্টিউট (Bsti), জেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপণন কোম্পানির ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ এছাড়াও রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অসৎ পেট্রোল পাম্প মালিক ও ভোক্তাদের জেল জরিমানাসহ লাখ লাখ লিটার মজুদকৃত তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
তারপরেও অবৈধ মজুদ ও অনিয়ম বন্ধ করা যাচ্ছেনা।
এটা হচ্ছে নৈতিক অবক্ষয়। মানুষ যতদিন পর্যন্ত সৎ ও সচেতন না হবে, ততদিন পর্যন্ত এ দেশ দিনকে দিন রসাতলে যাবে।
সরকারের উচিৎ এই আপদকালীন সময়ে প্রতিটি তেলের পাম্প ও ডিপোগুলোতে সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, পাম্প গুলোর আশেপাশে স্কুল কলেজ এবং সর্বদলীয় রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অথবা ১০ জন করে আনসার নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে তাদের রাষ্ট্রয়ী ফান্ড থেকে পারিশ্রমিক দেওয়ারও ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
বিআরটিসির জন্য পরামর্শঃ
এখন থেকে বিআরটিসির যাত্রীসেবা বাসের জন্য আর কোনো অকটেন, ডিজেল ও পেট্রোল চালিত বাস নয়, আমদানি করতে হবে (CNG) গ্যাস ও বিদ্যুৎ চালিত বাস।
ধীরে ধীরে পাবলিক মালিকানার যানবাহন গুলোকেও এই পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ জানেইনা বিদ্যুৎ ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন হয়। তবে তুলনায় কম। প্রধানত প্রাকৃতিক গ্যাস, কনডনসেট (যা থেকে পেট্রোল ও অকটেন হয়) এছাড়া অল্প পরিমাণে কয়লা ও খনিজ তেল উৎপাদন হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারি অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে ডিজেল, পেট্রোল ও ফার্নেস ওয়েল তৈরি করে। সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় দুই মাসের জ্বালানি তেলের মজুদ আছে।
এ অবস্থায়ও ভোক্তাদের মাঝে হাহাকার পড়ে গেছে।
সরকারের উচিৎ জ্বালানি তেলের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর হওয়া…