প্রকাশিত: জানুয়ারি ৬, ২০২৬
![]()
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হান্নানুল ইসলাম অভিযোগপত্র জমা দেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হান্নানুল ইসলাম হিডেন নিউজকে বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আটজনের বিষয়ে তদন্ত করেছেন। এর মধ্যে সাতজনকে অভিযোগপত্রে যুক্ত করার সুপারিশ করেছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাননি। আগের তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে উঠে আসা ২১ জনসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র ১৭ ডিসেম্বর আদালতে জমা দিয়েছেন।
এর আগে শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান গত বছরের ১ জানুয়ারি ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অপর আসামিদের জবানবন্দিতে নাম আসা আটজনকে এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় মামলার বাদী নারাজি দেন। আদালত বাদীর নারাজির ওপর শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন।
সম্পূরক অভিযোগপত্রে নাম আসা আসামিরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জালাল মিয়া (২৬); মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের সুমন মিয়া (২১); পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মোত্তাকিন সাকিন শাহ (২৪); ভূগোল বিভাগের আল হোসেন সাজ্জাদ (২৩); ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ (২৪), ওয়াজিবুল আলম (২২), ফিরোজ কবির (২৩), আব্দুস সামাদ (২৪), সাকিব রায়হান (২২), ইয়াছিন আলী গাইন (২১), ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম (২২), ফজলে রাব্বি (২৪), শাহরিয়ার কবির শোভন (২৪), মেহেদী হাসান ইমরান (২৫), রাতুল হাসান (২০), সুলতান মিয়া (২৪), নাসির উদ্দীন (২৩), মোবাশ্বের বিল্লাহ (২৫), শিশির আহমেদ (২২), মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি (২৩), আব্দুল্লাহিল কাফি (২১), শেখ রমজান আলী (২৫), রাশেদ কামাল অনিক (২৩), মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ (২৪), আবু রায়হান (২৩), রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ (২৪), রাব্বিকুল রিয়াদ (২৩) ও আশরাফ আলী মুন্সী (২৬)।
হলের খেলার মাঠে বসার ৫৭ সেকেন্ড পরই মারধর
সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হলের মূল গেট দিয়ে হলের ভবনের দিকে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট ১০ সেকেন্ডে প্রবেশ করেন। এর ৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর হলের মাঠে ঢোকেন। খেলা পরিচালনা মঞ্চের পাশ দিয়ে খেলার মাঠে বসার ৫৭ সেকেন্ড পরই ছাত্ররা চোর সন্দেহে তাঁকে মারতে থাকেন। সেখান থেকে উত্তেজিত ছাত্ররা তাঁকে মূল ভবনের দিকে নিয়ে যান।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেছেন, ২৫ মিনিট জেরা ও মারধরের পর একদল ছাত্র বুঝতে পারেন মুঠোফোন চোরের সঙ্গে এ আসামির সম্পর্ক নেই। পরে তাঁকে হলের ক্যানটিনে খাওয়ানো হয়। খাওয়ানো শেষে আবার ভুক্তভোগীকে মারা হয়। শিক্ষকেরা এসে ছাত্রদের বুঝিয়ে ভুক্তভোগীকে নেওয়ার চেষ্টা করে প্রথমে ব্যর্থ হন। পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে তোফাজ্জলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে। কয়েক দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শাহ মুহাম্মদ মাসুমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে নিহতের ফুফাতো বোন আসমা আক্তার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামানের আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার সঙ্গে মামলাটি একই সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন।