১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার,সকাল ৯:১৫

মানিকগঞ্জের সব আসনেই বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী, অস্বস্তিতে দলীয় প্রার্থীরা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি ঃ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতা (ওপরে বাঁ থেকে) মো. আব্দুল হক, আবিদুর রহমান খান, আতাউর রহমান ও তোজাম্মেল হক এবং বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া তিনজন হলেন (নিচে বাঁ থেকে) এস এ জিন্নাহ কবির, মঈনুর ইসলাম খান ও আফরোজা খানম ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের সব কটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নেতারা। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে তিনটি আসনে চারজন নেতা প্রার্থী হয়েছেন। এ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন দলীয় প্রার্থীরা। শেষ পর্যন্ত তাঁরা নির্বাচনে থাকলে ভোটের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নেতা-কর্মীদের অনেকে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতাদের দাবি, কর্মী-সমর্থকদের চাপে তাঁরা প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা আশা করছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের আগেই দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন।

গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। গত সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন। নির্বাচনে অংশ নিতে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ২৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মানিকগঞ্জ-১ (ঘিওর-দৌলতপুর-শিবালয়) আসনে ৯ জন, মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর-হরিরামপুর) আসনে ৬ জন ও মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া-সদর) আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে মানিকগঞ্জ-১ আসনে একজন, মানিকগঞ্জ-২ আসনে দুজন ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে বিএনপির একজন প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

মানিকগঞ্জ-১

এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির এক নম্বর সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির। এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খোন্দকার আকবর হোসেন ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক (বর্তমানে বহিষ্কৃত)। তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাঁদের মধ্যে খোন্দকার আকবর হোসেন মনোনয়নপত্র জমা না দিলেও স্বতন্ত্র হিসেবে তোজাম্মেল হক মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তোজাম্মেল হক হিডেন নিউজকে বলেন, মাঠের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করে দলের প্রার্থী দেওয়া হয়নি। কর্মী-সমর্থকদের চাপের কারণে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে তিনি জয়ী হবেন।

তবে বিএনপির প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সরে দাঁড়াবেন এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

মানিকগঞ্জ-২

আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান (শান্ত)। এখানে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সিঙ্গাইর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান খান ও জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. আবদুল হক মোল্লা।

আবিদুর রহমান খান বলেন, যাঁকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন না। কর্মী-সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের ইচ্ছায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

তবে বিএনপির প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান বলেন, এখানে তাঁর বাবা প্রয়াত শামসুল ইসলাম খান এমপি ছিলেন। তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার আমলে শিল্পমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর বাবা নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সাধারণ ভোটারসহ নেতা-কর্মীরা তাঁর পক্ষে আছেন।

মানিকগঞ্জ-৩

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি এখানকার সাবেক এমপি ও প্রয়াত মন্ত্রী হারুনার রশিদ খানের মেয়ে। এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

আতাউর রহমান হিডেন নিউজকে বলেন, এ আসনে যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল হতে পারে। তখন দলীয় প্রার্থী যদি না থাকেন, সেই বিবেচনায় এবং কর্মী-সমর্থকদের চাপে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

জানতে চাইলে আফরোজা খান রিতা বলেন, তিনি নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন এবং আছেন। প্রতিটি ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তাঁর বাবার ভূমিকা আছে। তিনিও যথাসাধ্য এসব প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করে আসছেন। ভোটারদের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে জরিপে দল থেকে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

আরও যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন

বিএনপির বাইরে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনে আরও ২০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মানিকগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আবু বকর সিদ্দিক, জনতা দলের মো. শাহজাহান খান, গণ অধিকার পরিষদের মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুসাইন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির দিলীপ কুমার দাস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. হেদায়েতুল্লাহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল আলী ব্যাপারী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মানিকগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এস এম আব্দুল মান্নান, খেলাফত মজলিসের মো. সালাউদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আলী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতের মুহা. দেলওয়ার হোসাইন, জাতীয় পার্টির আবুল বাশার বাদশা, এবি পার্টির মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাসদের মো. শাহজাহান আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সামসুদ্দিন, জাতীয় পার্টির (জেপি) মোয়াজ্জেম হোসেন খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গণফোরামের সভাপতি সাবেক এমপি মফিজুল ইসলাম খান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সমন্বয়ক মো. ফারুক হোসেন ও রফিকুল ইসলাম খান মনোনয়ন জমা দেন।

  • শেয়ার করুন