প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২৫
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার পরিত্যক্ত ভবনে নারীকে (৪৫) হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
আখাউড়ায় ‘মালের গাড়ি এসেছে’ বলে ডেকে নিয়ে কাঁচাবাজারের নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ধর্ষণ করে একজন। তবে তিন সদস্যের দলটির দুইজন তাকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে গলায় তারই শাড়ির আঁচল প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
বুধবার সন্ধ্যায় ওই তিন ধর্ষককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার শচীন চাকমা। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ওই নারীকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আখাউড়া পৌরশহরের সড়কবাজার কাঁচাবাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে তার মেয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সড়ক বাজারের নৈশপ্রহরী শহিদুল ইসলাম, পৌরশহরের মসজিদপাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা হোসেন ওরফে শফিক এবং একই এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা রুমান মিয়া। তারাও পেশায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী বলে পুলিশ জানায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পুলিশ সুপার শচীন চাকমা যুগান্তরকে আরও জানান, ভিকটিম নারী পৌরশহরের সড়কবাজার কাঁচাবাজারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার দিবাগত ভোররাত ৩টা ৪ মিনিটে কাঁচাবাজারের নৈশপ্রহরী (নাইটগার্ড) শহিদুল ইসলাম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে কৌশলে ওই নারীকে ফোন করে জানান- বাজারে মালের গাড়ি আসছে।
কাঁচাবাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পিবিআই দেখেন যে, নৈশপ্রহরী শহিদুল ইসলাম ফোন করার মাত্র ১৪ মিনিটের মধ্যে অর্থাৎ রাত ৩টা ১৮ মিনিটে ভিকটিম কাঁচাবাজার হয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসেন।
ধৃত তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, ভিকটিম ঘটনাস্থলে চলে আসার পর নৈশপ্রহরী শহিদুল ইসলাম প্রথমে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর সহযোগী হোসেন ওরুফে শফিক এবং রুমান মিয়া ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে চাইলে ভিকটিম তীব্র বাধা প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামি হোসেন শফিক ও রুমান মিয়া ভিকটিমকে জোরপূর্বক হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করার চেষ্টা করতে থাকে। ভিকটিমের প্রতিরোধের মুখে আসামিরা ওই নারীকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। হত্যাকাণ্ডের সময় আসামি হোসেন ওরুফে শফিক ভিকটিমের গলা সজোরে চেপে ধরে, আসামি শহিদুল ইসলাম ভিকটিমের দুই হাত চেপে ধরে এবং আসামি রুমান মিয়া ভিকটিমের দুই পায়ের উপর দাঁড়িয়ে থাকে। তারা ভিকটিমকে শ্বাসরুদ্ধে হত্যা করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থলে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আখাউড়া পৌরসভার পুরোনো ভবনের একটি কক্ষ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে আখাউড়া থানা পুলিশ।
পরবর্তীতে ফোনকলের সূত্র ধরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া অভিযান চালিয়ে প্রথমে বাজারের নৈশপ্রহরী শহিদুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগী অপর দুই আসামি হবিগঞ্জের রানীগঞ্জের নুর আলীর ছেলে হোসেন ওরুফে শফিক (৪০) ও হবিগঞ্জ সদরের গয়েরপুর গ্রামের নাদির হোসেনের ছেলে রুমান মিয়াকে (২০) গ্রেফতার করে। তারা আখাউড়া পৌরশহরের মসজিদপাড়া গ্রামের লাল মিয়া হাজী বাড়ির ভাড়াটিয়া।
আখাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ ছমিউদ্দিনহিডেন নিউজকে বলেন, ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ওরা তিনজনই শ্বাসরোধে হত্যা করে ওই নারীকে। আসামিরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।