১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,রাত ৩:৩৪

খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, মূল হোতাসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

খুলনার লবণচরার টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির আলোচিত তিন খুনের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমেদ এক লাখ টাকায় খুনিদের সঙ্গে রফাদফা করে। মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে ফ্রান্স প্রবাসী শামীম হত্যাকারীদের পাওনা পরিশোধ করে দেন। গত বুধবার গভীর রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের পরিকল্পনাকারী শামীম এমন তথ্য জানিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।  

শনিবার (২৯ নভেম্বর) কেএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এ তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিন খুনের মূল পরিকল্পনাকারী শামীম আহমেদ হত্যার শিকার দুই শিশুর বাবা শেফারের মামাতো ভাই। রূপসা উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ১ একর ৬৯ শতক জমি নিয়ে তাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। শামীম জাল দলিল করে ওই জমি ভোগ দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। এ নিয়ে মামলাটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

তিনি আরও বলেন, শামীম ২০১৬ সালে ইউরোপের দেশ ফ্রান্সে পাড়ি জমান। ২০২৩ সালে দেশে ফিরে রূপসা থানার অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। অস্ত্র মামলায় জামিন নিয়ে তিনি পুনরায় আবার বিদেশ পাড়ি দেন। কারাগারে থাকাকালীন খুলনার একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে তার সখ্যতা হয়। সেখানে থেকেই শেফার আহম্মেদ পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। কয়েক মাস আগে শামীম দেশে ফিরে ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য খুনিদের সঙ্গে ১ লাখ টাকা চুক্তিতে রফাদফা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, ১৬ নভেম্বর দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে বাড়ির দেওয়াল টপকিয়ে শামীমসহ ৬-৭ জন খুনি শেফার আহমেদের বাড়িতে প্রবেশ করে। ওই হত্যাকারীদের মধ্যে লবণচরা থানা এলাকার আর্জুর কালভার্ট এলাকার তরিকুল ইসলাম তারেক শেফার আহম্মেদের শাশুড়ি মহিতুন্নেছাকে ইট দিয়ে আঘাত করে মাথা থ্যাঁতলে দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এরপর শেফার আহম্মেদের দু’সন্তানকে একইভাবে ইট দিয়ে হত্যা করা হয়। তিন খুনের পর হত্যাকারীরা কিছু সময় তাদের বাড়িতে অবস্থান করে চলে যায়।

 

ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় শেফার আহম্মেদ প্রথম থেকে মামাতো ভাই শামীমকে দোষারোপ করে আসছেন। হত্যাকাণ্ডের ৩ দিন পর শেফার আহম্মেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ শামীম আহম্মেদের গতিবিধি লক্ষ্য করতে থাকে। এর মধ্যে ২০ নভেম্বর রাতে মোল্লাপাড়া আর্জুর কালভার্ট এলাকা থেকে তরিকুল ইসলাম তারেক এ মামলায় গ্রেপ্তার করে। তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তার দেওয়া তথ্যে পুলিশ পরবর্তীতে তাফসির হওলাদারকে গ্রেপ্তার করে।

এছাড়া প্রবাসী হওয়ায় শামীম সম্পর্কে পুলিশ বিভিন্নস্থানে তথ্য দিয়ে রাখে। ঘটনার পরপরই শামীম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রাখে। ফ্রান্সে যাওয়ার আগে শামীম তার বন্ধুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্নস্থানে কথা বলতে থাকে। বুধবার রাতে দেশের বাইরে যাওয়ার আগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় শামীম। পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের সব বর্ণনা দেন তিনি। স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চাইলে শুক্রবার রাতে তাকে উপস্থিত করা হলে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার হলেও অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে। এ মামলার অন্যান্য আসামিরা খুব দ্রুত গ্রেপ্তার হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন কেএমপি’র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শিহাব করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার ত ম রোকনুজ্জামান, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম মোর্শেদ, লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম প্রমুখ।

 

  • শেয়ার করুন