১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,রাত ৩:৪৪

বন্দর থানার (ওসি) লিয়াকত আলীকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কারন দর্শানোর নোটিশ

প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

থানা প্রতিবেদক ঃ

নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বানিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত ঘটনার মামলায় নিরীহ মানুষকে ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসর আখ্যা দিয়ে চরম হয়রানি ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ঘুষবানিজ্যর অভিযোগ খোদ ওসির বিরুদ্ধে। এব্যপারে ওসিকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ   কারন দর্শানোর নোটিশ  করেছে ।এছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারনাসহ  ঘুষ বানিজ্যের অসংখ্য অভিযোগের নৈপথ্যে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিয়াকত আলী র নামে  চাউর হয়েছে।

সূত্রমতে, শুক্রবার (২১ নভেম্বর)গভীর রাতে ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির নেতা কামাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কাইউম কে স্থানীয় ছাত্র জনতা আটক করে কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।পরে তাকে থানায় পাঠানো হয়।ভোরবেলায় চিহ্নিত মাদক ও চাদাবাজ সিন্ডিকেটের সদস্য তথা বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী কাইউমের  কয়েকজন সহযোগী থানায় এসে ওসি’র সঙ্গে কথা বলে এবং তাকে কোন মামলায় না দেওয়ার শর্তে দেনদরবার হয়।পরে থানার এসআই মিজানুর রহমানের মাধ্যমে লাখ টাকা লেনদেন করে এবং ৫৪ ধারায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কাইউম কে আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রাজন ও জাল রুমি গং এর কাউন্টার মামলায় মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য বিএনপি নেত্রী মাজেদা বেগম ও তার স্বামী আব্দুল মতিন, ছেলে সোহরাব এবং পুত্রবধূ কে শুক্রবার গভীর রাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।এ ঘটনায় স্থানীয়রা প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিলে শনিবার সকালে মাজেদা বেগম ও তার পুত্রবধূ কে দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়।তবে মতিন ও সোহরাব কে কাউন্টার মামলায় আদালতে পাঠানো হয়।একই ঘটনায় ভিকটিম মাজেদা এক সপ্তাহ আগে মামলা করলেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

তবে, পুলিশের দাবী কাইউম কে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ২:৪৫ ঘটিকায় জাঙাল বাসস্ট্যান্ড থেকে সন্দেহজনক হিসেবে আটক করা হয়েছে।অপর দু’জন মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়,পরে তাদেরকে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানান,গত ২ মাসে শতাধিক মানুষ কে বিনাকারণে আটকে রেখে মোটা অংকের অর্থ আদায় করা হয়েছে।এদের মধ্যে তালিকাভুক্ত পলাতক স্বৈরাচারদের আপনজন থেকে ঘনিষ্ঠ দোসর রয়েছে। যাদেরকে মোটা অংকের লেনদেনের মাধ্যমে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মী সমর্থকদের গ্রেফতার করে দায় সারলেও পদধারী এবং ছাত্র হত্যার একাধিক মামলার আসামিরা ওসি’র সঙ্গে কথা বলে এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।এমনকি চালাচ্ছেন দলীয় কর্মকান্ড।

থানায় আগত সেবাপ্রার্থীরা জানান, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে পুলিশের হারানো মনোবল  এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পুর্ন উল্টো।সেই ফ্যাসিবাদী আচরণ আর বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য ব্যাতিত নুন্যতম পরিবর্তন ঘটেনি থানায় আইনী সেবার ক্ষেত্রে। বরং মানুষের হয়রানি বেড়েছে বহুগুণ।টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না।

এ বিষয় জানতে চাইলে থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, আমি কিছু জানি না। ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেন।কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, গতকাল রাতে স্থানীয় ছাত্রজনতা জাংগালের কাইউম নামে একজন কে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তাকে থানায় পাঠানো হয়।অপরদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) ইমরান আহমেদ বলেন, এসব ঘটনা জানা নেই। তবে খোঁজ খবর নিয়ে সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

  • শেয়ার করুন