প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক ঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও শহীদ পরিবারগুলোর অভিযোগ অনেক,সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অনেক কিছুই আজও বাস্তবায়িত হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমআইএস তথ্য অনুযায়ী জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সারা দেশে সরকারি গেজেটে শহীদের সংখ্যা ৮৪৩ জন। এসব শহীদ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যে উঠে এসেছে হতাশার বানী, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার চিত্র।
জুলাইয়ের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন,তাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল দ্রুত বিচার।কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির। তিনি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে জীবন দিলেও এখনো সেই বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে ওঠেনি । চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও জীবন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই রয়ে গেছে।
রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে ১৮ জুলাই গুলিতে প্রাণ হারান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল (বিইউপি) এমবিএর শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে মুগ্ধের শহীদ হওয়ার ঘটনা আন্দোলন আরো ছড়িয়ে পড়ে। ‘পানি লাগবে পানি’—এই স্লোগান মুখে মুখে।
গতকাল মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়, তিনি বলেন, শহীদ মুগ্ধের রক্ত ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার, যেখানে থাকবে না কোনো দলাদলি, থাকবে না জুলুম চাঁদাবাজি, থাকবে না সন্ত্রাস। অন্যায় ও অত্যাচার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার। ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলের সকলের বিচারের রায় বাস্তবায়ন না হলে শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে।
ঢাকায় ধানমন্ডির ৩ নম্বর রোডে সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আছাদুজ্জামান খান কামালের সরকারি ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি করলে সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয় নিহত হয়। গতকাল তাহির জামান প্রিয়র বাবা আবু হেনা মোস্তফা জামান বলেন, ‘আমি একজন একমাত্র সন্তানহারা বিপত্নীক বাবা। জুলাই আন্দোলনে সন্তান শহীদ হওয়ায় আমাকে যে কেহ বৃদ্ধ বয়সে দেখবে তা কেউ রইল না। সরকার থেকে কোনো সহযোগিতা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে মোস্তফা জামান বলেন, ছেলে হারিয়ে আমি মানসিকভাবে ভারসাম্য হয়ে পরেছি। এর মধ্যে প্রিয়র মা কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করে সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। পরে আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় আমাকে ১ লাখ টাকা এককালীন ও মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাতা দেয়। এই ৫ হাজার টাকায় আমি এখন রংপুরের বাসায় দিন যাপন করছি।
১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে কর্তব্যরত অবস্থায় ঢাকা টাইমসের সাংবাদিক মেহেদি হাসান নিহত হয়। গতকাল তার ভাই জাহিদ হাসান আশিক বলেন, মেহেদির দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা শঙ্কিত। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে মেহেদীর পরিবার কোনো আর্থিক সহায়তা পায়নি।
শনির আখড়ায় নিহত ইউসুফ সানোয়ারের বোন বিউটি বেগম অভিযোগ করেন, শুরুতে অনেকে পাশে থাকলেও এখন তাদের খোঁজ নেন না। শহীদ পরিবারের অনেকের অভিযোগ, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে শহীদদের জন্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বাস্তবায়নের গতি ধীর।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘এক দফা’ অসহযোগ কর্মসূচির দিনে সিলেটের গোলাপগঞ্জ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেদিনের এই হামলায় শহীদ হন- তাজউদ্দীন, গৌছ উদ্দীন, মিনহাজ, কামরুল ইসলাম পাভে, জয় আহমদ, নাজমুল, সানি ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার বিষয়ে শহীদ কামরুল ইসলাম পাভেলের বাবা এখনো কোনো বিচার দেখতে পাননি এবং অনেক আসামি ইতিমধ্যে বিদেশে পালিয়ে গেছে।
একই চিত্র বগুড়ায়। শহীদ পরিবারগুলোর বক্তব্য, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন করার।