২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার,রাত ১:১২

ছাত্রদল থেকে বিএনপি: তিন দশকের রাজনীতিতে নতুন দায়িত্বের প্রত্যাশায় মিজানুর রহমান খোকন

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্ব থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় মহানগর নেতৃত্বের আলোচনায় এক সংগঠক

মোঃ মিজানুর রহমান খোকন

বিশেষ প্রতিবেদক ঃ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক নেতার পরিচয় শুধু দলীয় পদ-পদবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক তৎপরতা, কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক, প্রতিকূল সময়ে মাঠে থাকা এবং দলের আদর্শের প্রতি ধারাবাহিক আস্থাই অনেক নেতার রাজনৈতিক পরিচয়কে আলাদা করে তুলে ধরে। রাজনীতির মাঠে কেউ দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় ধরে নীরবে সংগঠনের ভিত্তি শক্তিশালী করার কাজে যুক্ত থাকেন।

মোঃ মিজানুর রহমান খোকন তেমনই একজন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগঠক, যিনি ছাত্ররাজনীতির ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে থানা, মহানগর এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে বিএনপির রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বের প্রত্যাশায় রয়েছেন।

তার অনুসারীদের মতে, রাজনীতিতে তার মূল শক্তি হলো দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দলের প্রতি ধারাবাহিক সম্পৃক্ততা

পরিবার শৈশব ঃ

মোঃ মিজানুর রহমান খোকন ১৯৭০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোঃ আবদুল মোত্তালিব। ঢাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠন ও নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন।বর্তমানে তার ঠিকানা ১১৩, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা।

শিক্ষাজীবন ঃ শিক্ষাজীবনে তিনি বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন। গভর্নমেন্ট সায়েন্স কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তেজগাঁও কলেজ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০১ সালে বিএ (পাস) এবং ২০০৩ সালে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেন।

ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ১৯৯৫ সালের ১০ মে রমনা থানা ছাত্রদলের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে মোঃ মিজানুর রহমান খোকনের রাজনৈতিক জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।এরপর তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও সক্রিয়তার ভিত্তিতে তিনি ধাপে ধাপে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে ঃ১০ মে ১৯৯৫: রমনা থানা ছাত্রদলের ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি, ১৩ জুলাই ১৯৯৫: রমনা থানা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৯৬: রমনা থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৭: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সদস্য,  ১৯৯৮: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক,  ১৯৯৮: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য, ১৯৯৯: রমনা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক, ২০০০: রমনা থানা ছাত্রদলের সভাপতি,  ২০০১: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক,  ২০০৩: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ২০১০: কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহকারী যুগ্ম সম্পাদক।

দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি সংগঠনের মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত কাজ করার সুযোগ পান।

বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা ঃ

ছাত্ররাজনীতির দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর মোঃ মিজানুর রহমান খোকন বিএনপির মূল রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হন। ২০১৩ সালে তিনি রমনা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, তিনি বিভিন্ন সময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সমন্বয় এবং দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন।

তার সমর্থকদের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংগঠনের প্রতি আস্থা রেখে ধারাবাহিকভাবে কাজ করেছেন এবং মাঠের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে।

রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত নেতৃত্ব ঃ

রাজনীতির পাশাপাশি মোঃ মিজানুর রহমান খোকন একজন ঠিকাদার হিসেবে পেশাগত জীবন পরিচালনা করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বর্তমানে তিনি PWD সিটি ডিভিশনের ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, পেশাগত সংগঠনেও তিনি নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করছেন। ঠিকাদারদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমন্বয়, সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন।      

  • শেয়ার করুন