২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার,রাত ২:০৬

ইসলামি দলের নেতারা কে কোথায় ঈদ করছেন

প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২৬

  • শেয়ার করুন

 নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ

ইসলামি দলগুলোর শীর্ষ কয়েকজন নেতা।

প্রতি বছর ঈদে রাজনীতিবিদরা কে কোথায় ঈদ উপযাপন করেন সেটা নিয়ে কৌতূহল থাকে সাধারণ মানুষের। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। মূলধারার রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি ইসলামি দলগুলোর নেতাদের নিয়ে এক ধরনের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে জনমনে। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর নেতারা মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় তাদের ব্যাপারে জনসাধারণের কৌতূহল আরও বেড়েছে।

দেশের বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং কীভাবে দিনটি কাটাবেন, সে তথ্য দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) এবং সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই মাদরাসা মসজিদে। সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামায়াতে চরমোনাই পীর ইমামতি করবেন।

দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ ঢাকার কদমতলীর জামেয়া ইউনুসিয়া মাদরাসা মসজিদে নামাজ আদায় করবেন।

যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি মক্কায় পবিত্র হারামে ঈদের নামাজ আদায় এবং প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

 

যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ রাজধানীর ভাটারা সাঈদনগর মাদরাসায় ঈদের জামায়াতে ইমামতি করবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক খিলগাঁওয়ের আদর্শবাগের বাইতুল ইবাদাত জামে মসজিদে নামাজ আদায় করবেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

ইসলামি ধারার রাজনীতিতে আলোচিত সংগঠন মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এবারের নির্বাচনে দলটির দুজন সদস্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন ডজনের ওপরে নেতা। ফলে দলটি এবার ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন করছে। দলের শীর্ষ নেতাদের বেশির ভাগই নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ঈদ করবেন।

 

দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক বর্তমানে ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে রয়েছেন। তিনি শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) মক্কায় ঈদের নামাজ আদায় করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ ঢাকার ইসলামবাগ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন। নায়েবে আমির মুফতি সাঈদ নুর কাফাটিয়া মানিকগঞ্জে ঈদগাহ মাঠে ইমামতি করবেন।

মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর বাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ইমামতি করবেন। সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ ময়মনসিংহের ফুলপুরে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন ঢাকার মোহাম্মদপুরে নামাজ আদায় করে পরে ভৈরবে যাবেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে অনেকে নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাতে অংশ নেবেন।

খেলাফত মজলিস

খেলাফত মজলিসের নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের এড়ালিয়া ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামায়াতে ইমামতি করবেন। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের ঢাকার পশ্চিম আগারগাঁও ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন।

নায়েবে আমিরদের মধ্যে মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন খুলনায়, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী ঢাকার হাজারীবাগে এবং হাফেজ মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ সিলেটে ঈদের জামায়াতে ইমামতি করবেন।

এছাড়া দলের অন্যান্য নেতারা পাবনা, কুষ্টিয়া, জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং লন্ডনেও ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতারাও দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের প্রধান ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এবং সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব সাভারের হাবিবনগর ঈদগাহ মাঠে ইমামতি করবেন।

মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী নীলফামারীর ডোমারে ঈদের নামাজ পড়াবেন। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া মিরপুর গোলারটেক ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন।

যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী রাজধানীর বারিধারা মাদ্রাসার মসজিদে ঈদের নামাজের ইমামতি করবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী ধানমন্ডি কেন্দ্রীয় মসজিদে ঈদের ইমামতি করবেন।

প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের হরষপুর ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

এছাড়া দলের অন্যান্য নেতারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাতে অংশ নেবেন এবং দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করবেন।

নেতাকর্মীরা বলছেন, ইসলামি দলগুলোর শীর্ষ নেতারা এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশে ছড়িয়ে পড়লেও মূল বার্তা একটাই—ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো এবং দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা।

  • শেয়ার করুন