প্রকাশিত: নভেম্বর ৪, ২০২৫

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ
পুরান ঢাকার বংশালে প্রেমের জের ধরে প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিক সজীব হত্যার নয় দিনেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। হত্যার ঘটনায় আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
সোমবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত সজীবের পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নিহতের বোন প্রিয়াংকা আক্তার অনিকা, শান্তা আক্তার, বোন জামাই মো. কায়কোবাদ ও ভাবি তাহমিনা তৃষাসহ অন্যান্যরা।
উল্লেখ্য, গত ২৫ অক্টোবর রাতে বংশালের ৯৩/১, আগা মসিহ লেনের চার তলা বাড়ির চতুর্থ তলার সিঁড়ি থেকে সজীবের লোহার তার দিয়ে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়ির চতুর্থ তলায় সজীবের প্রেমিকা খাদিজার বাড়ি। ঘটনার পর পুলিশ হত্যা মামলা অস্বীকার করলে, নিহতের পরিবারের আন্দোলনের মুখে চার দিন পর পুলিশ মামলা নেয়।
গতকাল ক্র্যাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন নিহতের বোন শান্তা আক্তার। তিনি বলেন, তার ভাই সজীবের সাথে ৪/৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বংশাল থানা এলাকার ৯৩/১, আগা মসিহ লেনের বাড়ির চতুর্থ তলায় বসবাসকারী খাদিজা নামের এক মেয়ের সাথে। ওই বাড়ির মালিক খাদিজার মামা হাজী কামাল হোসেন সৌদি প্রবাসী। খাদিজার পরিবার আগা মসিহ লেনে প্রভাবশালী এবং সম্পদশালী। সজীবের সাথে খাদিজার প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হওয়ার পর তার (খাদিজা) পরিবার বিষয়টিকে মেনে নেয়নি। গত ২৫ অক্টোবর বিকাল ৩টার দিকে খাদিজার সাথে দেখা করতে ওই বাড়ির চতুর্থ তলার বাসায় যায় সজীব। পরে সন্ধ্যার দিকে তারা খবর পান যে ওই বাড়ির সিঁড়িতে জিআই তার দিয়ে হাত-পা বাঁধা ও শরীর প্যাঁচানো অবস্থায় সজীবের লাশ সিঁড়িতে পড়ে আছে। লাশ উদ্ধারের পর আমরা বংশাল থানায় গেলে থানা পুলিশ কোনো মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বংশাল খানার ওসি রফিকুল ইসলাম আমাদের কাছে দাবি করেন যে সজীবের মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হবে। পরে ময়না তদন্তে হত্যার আলামত পেলে সেটা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করা হয়, ওসি প্রেমিকা খাদিজার প্রবাসী মামা হাজী কামাল হোসেনের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা পেয়ে তাদের অভিযোগ মামলা হিসাবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। পরে মামলা গ্রহণের দাবিতে চার দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার পর পুলিশ মামলা গ্রহণে সম্মত হয়। কিন্তু কোনো আসামীর নাম লিখতে নিষেধ করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের দাবির মুখে মামলায় খাদিজার মামা প্রবাসী হাজী মো. কামাল হোসেন ও মো. হুমায়ুন কবিরের নাম অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এই মামলার প্রধান আসামী খাদিজা এখনও আগা মসিহ লেনের বাসায় অবস্থান করলেও পুলিশ অজ্ঞাত কারণে তাকে গ্রেপ্তার করছে না। এক্ষেত্রে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভিকটিম পরিবারের করা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার বিকাল তার মুঠো ফোনে কল করার পরও রিসিভ করেননি।