১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার,রাত ৩:৩৪

বিএনপি সমর্থীত সাংবাদিক নেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহারে বিএনপির নেতৃত্ব, প্রেস ক্লাবে বিলুপ্তির পথে!

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২৫

  • শেয়ার করুন

১৯৭৭ সালের ২২ ডিসেম্বর সরকার জাতীয় প্রেসক্লাবের অনুকূলে জায়গাটি বরাদ্দ দেন। ১৯৭৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং এর সমুদয় ব্যয়ভার  (বিএনপি ) সরকার বহন করে। জাতীয় প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের একটি প্রফেশনাল ক্লাব হলেও বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

গণতন্ত্র সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় এবং স্বৈরশাসনের দুঃসহ দিনগুলিতে প্রেসক্লাবই হয়ে আসছে আন্দোলন সংগ্রামের কেন্দ্রস্থল হিসেবে। ঠিক তেমনি ২০২৪ সালের ১৬ জুন থেকে  স্বৈরাচারি সরকারে বিরুদ্ধেও আন্দোলন সংগ্রামের মুল কেন্দ্রস্থল জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়।

মোঃ হুমায়ুন কবির ঃ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী  দল ( বিএনপি )  ১৯৭৭ সাল থেকে  জাতীয় প্রেস ক্লাব নিয়ন্ত্রন করা শুরু করে । ভবন নির্মান ও লোগা এবং প্রতিক নির্বাচন ১৯৯৫ সালে বিএনপির সমার্থকদের ইচ্ছায় হয়। এই ১৯৭৭ সাল থেকে বিএনপির দলের  সমর্থীত সাংবাদিকদের হাতে জাতীয় প্রেস ক্লাব ৯০ % নিয়ন্ত্রন থাকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত । অথচ সদস্য পদ দিতে বিএনপি প্রতি বছরই গরিমসি করেছে। অপরদিকে নানান ধরনের অযুহাত নিয়মনীতির ভিতরে সিমাবদ্ধ রেখে সদস্য পদ দেওয়া থেকে বলতে গেলে বিরত থাকে। যার ফলে সদস্যর সংখ্যা বিএনপির ও অন্য দল সমুহের বাৎসরিক হারে কম হয়। আর অন্য দল বলতে আওয়ামী-লীগ সাংবাদিকগন  প্রেস  ক্লাবের  নির্বাহী কমিটিতে কম থাকায় বা না থাকায় তারা তেমন প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি।তবে তারা মুখ বুঝে  সহ্য করলেও ভিতরে বড় জ্বালা তাদের ছিল। কিন্তু প্রবীণ সাংবাদিকগন নির্বাহী কমিটিতে থাকায় প্রেস ক্লাবের পরিবেশ শান্ত ও শৃঙ্খলা ছিল।  হয়তো বিএনপির নেতারা যে ধরনের নীতিমালা বা গঠনতন্ত্রের কথা বলে নিয়মিত সদস্যপদ  না দিয়া বছরের পর বছর সময় অতি বাহিত করেছে  তা ভুল ছিল । কিন্তু তখনকার  নির্বাহী কমিটি মনে করতো যা করছে তাহা সঠিক পথেই আছে। আসলে উভয় দলের  অনেক প্রবীণ  সাংবাদিকগন সদস্যতা না পেয়ে মৃত্যুবরন করেছে।তখনও কিছু সাংবাদিকদের হাতের মুঠোয় প্রেসক্লাবের সদস্য পদ দেওয়া নেওয়ার ক্ষমতা ধরা ছিল।এভাবে তারা করতে করতে তাদের ক্ষমতা ২০০৯ সাল থেকেই একটু একটু করে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। ২০১৬ ইং সালের ডিসেম্বরে প্রেসক্লাবে নির্বাচন হয় ২০১৭-২০১৮মেয়াদের জন্য। এই নির্বাচনে আওয়ামী-লীগ সংখ্যাগরিষ্টতা পেয়ে বিজয়ী হয় ও প্রেস ক্লাবের সকল দায়িত্ব বুঝে নেয়। ক্ষমতার চেয়ার ও মাতুব্বারী থেকে বিএনপি দলের সদস্যগন বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। বিএনপি দলের আদর্শ ও গুনাবলী সাঝানো পরিপাটি সব বেস্তে যায়। প্রায় একটানা ৪০ বছর বিএনপি দলের সমর্থীত প্রবীণ সাংবাদিকদের হাতে প্রেসক্লাব নিয়ন্ত্রন ছিল । এ সময় তারা ক্ষমতার অনেক অপব্যবহার করায়  বিএনপির ও আওয়ামীলীগের কিছু সাংবাদিকদের মাঝে  প্রতিহিংসা ও ক্ষোভের  সৃষ্টি  হয়। যাহা তারা নিজেরা পরিমাপ করতে পারে নাই। এর ফলে বিএনপি দলের মাঝে দ্বিখন্ডীত হয়ে যায়। বিএনপির একাংশ আওয়ামীলীগের সাথে যোগ দিয়ে সদস্যপদ নিয়ে নেন। কারন ক্ষমতাধর  বিএনপির নেতারা ক্ষমতায় থাকার সময় তাদের চামচা বা তেলমালিশ ব্যক্তি ছাড়া দুই একজন ব্যতিত সদস্য পদ বাহিরে দিয়েছেন।  বিধায় উভয দলের সাংবাদিকগন পুরানা নির্বাহী কমিটির উপর ক্ষোভ ঝাড়েন। এই বিএনপির  নিয়ন্ত্রনে থাকায় বিএনপি ও আওয়ামী-লীগ পন্থীরা কেহ সদস্য পদ পায় নাই।যার ফলে সবার ভিতরে ভিতরে ক্ষোভ জন্ম নেয়।আওয়ামী-লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায়   ও প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ২০১৭-১৮মেয়াদে আওয়ামীলীগ সমর্থীত প্যানেল ১৭ টি পদের মধ্যে  সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন সহ ১৪টিতেই জয় লাভ  করেন। ক্লাবের  মাতুব্বারি বিএনপির হাত থেকে ছাড়া হয়ে যায় । এবার তারা পুর্বের ক্ষোভে গঠনতন্ত্র পরিবর্তন করে তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চিত সাংবাদিকদের সদস্য পদ দিতে থকেন। আর বিএনপির মাঝে দলাদলিতে ও চামচা আর তেলমালিশদের কারনে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে যায়।এর ফলে বেশ কিছু হিম্মতওয়ালা বা সাংবাদিগতার বর্ষীয়ান নেতা কর্মীদের ক্লাবের সদস্য পদ থেকে  বহিস্কার করা হয়। এতে বিএনপির সদস্যর পদ আরও কমে যায়্। বিএনপির একত্রীত শক্তি নরবরে হয়ে যায়।  আওয়ামীলীগের সদস্য পদ যা দিয়ে গেছে তা থেকে ২০২৪ এর গনআন্দোলনে রাজনৈতিক ও সরকারে  পরিবর্তনের  ফলে কিছু আওয়ামী-লীগ  সদস্য পদ হাড়ায়। তবুও বিএনপির চেয়ে তাদের সদস্যর সংখ্যা বেশি।এরই ফাকে জামায়াত সুযোগ বুঝে তাদের টার্গেট তারা নিরবে গুছিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। তারা তাদের সদস্য পদ দিতে যত প্রকার সাহায্যর দরকার তা  নীয়মিত করছে । যেমন কম্বলে উকুন হয়েছে ,,ঐ উকুনটাই  তারা বেঁচে ফেলছে” কম্বল ফেলে নাই। আর বিএনপি উকুনের জন্য কম্বলটাই ফেলে দিচ্ছে ও চামচাদের অগ্রঅধিকার দিচ্ছে।এর ফলে বিএনপির সদস্য সংখ্যা দিন দিন কমছে আর জামায়াতের সদস্য বাড়ছে।বিএনপি এখনই এমন একটা বিপদের মুখে পরছে জামায়াতের সিদ্ধান্তের বাহিরে তারা কথা বলতে বা কোন কাজের সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না। অপর দিকেতো আওয়ামীলীগ সজাগ আছেই।বিএনপির কিছু নেতাদের সাময়ীক লাভবানের ফলে ও দলাদলিতে আর চামচাদের কানপরামর্শের কারনে প্রেসক্লাবের আগামি দিনের নেতৃত্বের পদ শুন্যের কোঠায় পোছার পালা হয়েছে। সামান্য কয়েকজন নেতা পুরো বিএনপির সমর্থীত সাংবাদিকদের কোলঠাসা করে নিজেরা নিজেদের বড় হিম্মতওয়ালা শক্তিশালী মনে করায় বর্তমানে বিএনপি নেতাদের মাঝে তিন ভাগে ভিবক্তের পালায় পৌছেছে। আমার দেখামতে ২০/২৫ বছর ইউনিয়নে আছি বলে প্রেস ক্লাবের নির্বাচন ও ডিইউজের নির্বাচনে উপস্থিত থেকে যা দেখছি তা বর্ন না করলাম। বিএনপি সমর্থীত সাংবাদিক নেতারা নিজস্ব কর্মীদের ভালো সুযোগ সুবিদা ও সহযোগিতা করেন না। তারা অন্য দলের কর্মী নেতাদের  বেশি  মুল্যায়ন করেন । কারন তারা তাকে পকেটেও দেন আবার গন গন সালাম দেন তার কারনে ।আবার বিএনপির সাংবাদিকগন মুখে যা বলেন কাজে তা করেন না, ক্ষতি করেন বেশি। এমন ধরনের কাজের ফলে বিএনপি সমর্থীত সাংবাদিক নেতারা আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের নেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পরবে।  বিএনপি সমর্থীত সাংবাদিক নেতারা নিজেদের অতিরিক্ত লোভ লালসার আর চামচাদের সাংবাদিক সদস্য বানানোর কারনে  কোলঠাসা হয়ে পরবে।যারা বর্তমানে নেতৃত্বে আছেন, পদে আছেন তারা তাদের নিজের কাছে বড় নেতা  মনে করেন কিন্তু ক্লাবে যে অন্য দুই দল আছে তাদের কাছে তারা এখনই  বিড়ালছানার মত মিউ মিউ করেন।

কিছু জাতীয় প্রেসক্লাবে ইতিহাস তুলে দিলাম

১৯৫৪ সালের ২০ অক্টোবর পূর্ব পাকিস্তান প্রেস ক্লাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব।
* পূর্ব পাকিস্তান সরকার প্রেসক্লাবের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ১০০ টাকা মাসিক ভাড়ায় ১৮ তোপখানা রোডে একটি ভবন ভাড়া দেয়।
* ১৯৪৭ সালের আগে ভবনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক বাড়ি ছিল এবং একসময় পদার্থবিজ্ঞানী সত্যেন্দ্র নাথ বসুর বাসভবন ছিল।
* ক্লাবের প্রথম আজীবন সদস্য ছিলেন এন এম খান যিনি প্রাদেশিক সরকারের মুখ্য সচিব ছিলেন।
* ক্লাবের প্রথম সভাপতি ছিলেন মুজিবুর রহমান খান।
* ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে এবং ক্লাবটিতে গোলাবর্ষণ করে, কাঠামোটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
* বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর এর নামকরণ করা হয় জাতীয় প্রেসক্লাব।
পুর্বেরটা আমরা  না ধরে এখান থেকেই হিসাব করি  বিএনপির সমর্থীত সাংবাদিকগন প্রেস ক্লাবের দায়িত্বে থেকে সাংবাদিকদের জন্য কি করেছে ?

>>১৯৭৭ সালে ২২ ডিসেম্বর  ভবনটি প্রেস ক্লাবের কাছে স্থায়ীভাবে তখনকার সরকার লিজ দেয় এবং বাংলাদেশ সরকার একটি নতুন ভবনের খরচ বহন করে।১৯৯৫ সালে ক্লাবের লোগো এবং প্রতীক নির্বাচন করা হয়েছিল।

  • শেয়ার করুন