প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে কেন্দ্রিক রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তৌহিদ আফ্রিদিকে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান তাকে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী খায়রুল ইসলাম তার জামিনের আবেদন করেন।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন বলেন, আমরা শুনতে পেরেছি এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পেরেছি, তৌহিদ আফ্রিদির সঙ্গে মুনিয়ার যে কাণ্ড, মুনিয়ার হত্যাকাণ্ড এবং তার সঙ্গে যে কথোপকথনের অভিযোগ এসেছে, সেই বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, অর্থাৎ আইওকে অবারিত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই মামলার তদন্তকালে আইও দেখভাল করবে, অন্য কোনো ঘটনার সঙ্গে বা মামলার সঙ্গে তারা জড়িত আছে কিনা।
তিনি বলেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি খতিয়ে দেখেন, তৌহিদ আফ্রিদির সঙ্গে মুনিয়া হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা এবং তার সঙ্গে কোনো কথোপকথন ছিল কিনা। এ ছাড়া অন্য কোনো নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ যা সামনে আসছে, সেগুলোও তদন্তকারী কর্মকর্তা পরীক্ষা করে দেখবেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস জামিনের আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন। গত ২৫ আগষ্ট তৌহিদ আফ্রিদিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
এর আগে তৌহিদ আফ্রিদিকে গত ২৪ আগস্ট রাতে সিআইডির একটি দল বরিশাল থেকে গ্রেফতার করে। এর আগে ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে আফ্রিদির বাবা নাসিরকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন এ মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার পাকা রাস্তার ওপর আন্দোলনে অংশ নেন মো. আসাদুল হক বাবু। ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটায় আসামিদের ছোড়া গুলি আসাদুলের বুকে ও ডান পাশে লাগে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ৩০ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় নাসির উদ্দিন ২২ নম্বর ও তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।