প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২৬
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ

নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে কলকারখানায় উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি বিসিক শিল্প নগরীর একটি কারখানায়
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কেওঢালা এলাকার ডাইং কারখানা ‘টোটাল ফ্যাশন লিমিটেড’। কারখানাটিতে গতকাল শনিবার দুপুর থেকে আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন কমে গেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন করতে না পারায় লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা কবিরুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিং মোকাবিলায় চাহিদামতো ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ ও গ্যাস–সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ১০ টন থেকে কমে দুই টনে দাঁড়িয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার মধ্যে বন্দর, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর প্রতিদিন ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হলেও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে ১৪০ মেগাওয়াট। চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ঘাটতি মোকাবিলায় লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। শহরের বাইরের এলাকায় দিনে-রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। লোডশেডিংয়ের মধ্যে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।
নারায়ণগঞ্জ: একবার গেলে ‘দুই ঘণ্টা লোডশেডিং’
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নারায়ণগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকাগুলোতে একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বেশি। এতে শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি বোরো মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত সহ বিসুদ্ধ পানির অনেক অভাব হচ্ছে।
বন্দরের মালিবাগ এলাকার বাশার পেপারস লিমিটেড কারখানায় প্রতিদিন ১৫ টন কার্টনের কাগজ তৈরি করা হয়। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের উৎপাদন কমে কমে ৮ থেকে ৯ টনে নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে তাঁদের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হলেও ডিজেল–সংকটে সেটাও সম্ভব হচ্ছে না।
জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় ঘাটতি মোকাবিলায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটী বিসিক শিল্পনগরীতেও লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। এলাকাটি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) নারায়ণগঞ্জের আওতাধীন। তবে প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জে তাদের প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৫০৯ মেগাওয়াট। তারা চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করছে।
বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম সারোয়ার বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর ও গাড়ির মালামাল পরিবহনে পাম্পগুলোতে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।
ডিপিডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, চাহিদামতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও লোডশেডিং নেই। তাঁর দাবি, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সমস্যার কারণে কিছু ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে, সেটা লোডশেডিং নয়।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে লোডশেডিংয়ের কারখানায় ডাইং কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।